তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। শপথ নেওয়া নয়জন মন্ত্রীর দলটি এখন তামিল রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, এই মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের উপস্থিতি, তেমনি জায়গা পেয়েছেন তরুণ নেতা, চিকিৎসক, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও সাবেক আমলারাও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজের কাছে জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে বিজয় এমন একটি দল গড়তে চেয়েছেন, যেখানে অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্ম—দুইয়ের সমন্বয় থাকবে।
অভিজ্ঞতার ভরসায় আনন্দ
নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি আনন্দ। দলটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা এই নেতা বিজয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবেও পরিচিত। পুদুচেরির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা ৬১ বছর বয়সী আনন্দ থিয়াগারায়ানগর আসন থেকে জয় পেয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে তাকে দলের অন্যতম কৌশলী সংগঠক হিসেবে দেখা হয়।
কৌশলের নেপথ্যে আধব অর্জুনা
ব্যবসায়ী ও সাবেক বাস্কেটবল খেলোয়াড় আর আধব অর্জুনা রাজেন্দ্রনও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তিনি ভিল্লিভাক্কম কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। নির্বাচনী প্রচারণা ও কৌশল নির্ধারণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দলীয় নেতারা মনে করেন। এর আগে তিনি অন্য রাজনৈতিক দলে সক্রিয় ছিলেন। পরে ২০২৫ সালে বিজয়ের দলে যোগ দেন।

চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক
কে জি অরুণরাজ পেশায় চিকিৎসক। পরে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে আয়কর বিভাগে বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। স্বেচ্ছা অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দেন। স্বাস্থ্যসেবা ও জনসংযোগমূলক কাজের মাধ্যমে তিনি আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন। এখন তিনি দলের নীতি ও প্রচার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
দলের প্রবীণ মুখ সেনগোট্টাইয়ান
৭৮ বছর বয়সী কে এ সেনগোট্টাইয়ান নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য। তিনি বহুবারের নির্বাচিত আইনপ্রণেতা। অতীতে বড় রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই নেতা এখন বিজয়ের দলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন। তার অভিজ্ঞতা দলকে শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রচারণার নায়ক নির্মল কুমার
আর নির্মল কুমার পরিচিত ডিজিটাল প্রচারণার জন্য। প্রকৌশল, আইন ও অপরাধবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা এই নেতা আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ডিজিটাল শাখায় কাজ করেছেন। পরে বিজয়ের দলে যোগ দিয়ে আধুনিক ডিজিটাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন।

বিনোদন জগত থেকে রাজনীতিতে
রাজমোহন আরুমুগাম একজন অভিনেতা, উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী। জনপ্রিয় অনলাইন অনুষ্ঠান ও তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনি দ্রুত পরিচিতি পান। এবার নির্বাচনে জয় পেয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিয়েছেন। শহুরে তরুণ ভোটারদের কাছে তার জনপ্রিয়তা দলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
চিকিৎসাসেবা থেকে মানুষের রাজনীতি
ডা. টি কে প্রভু পেশায় দন্ত চিকিৎসক। কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
সবচেয়ে তরুণ ও একমাত্র নারী মন্ত্রী
৩০ বছর বয়সী এস কীর্থনা এই মন্ত্রিসভার সবচেয়ে তরুণ সদস্য এবং একমাত্র নারী মন্ত্রী। গণিত ও পরিসংখ্যানে পড়াশোনা করা কীর্থনা বহুভাষায় কথা বলতে পারেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তার ভাষাগত দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। শিবকাশি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়ে তিনি নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে উঠে এসেছেন।

আইন ও অর্থনীতির প্রতিনিধি ভেঙ্কটারামানান
পি ভেঙ্কটারামানান পেশায় আইনজীবী ও হিসাববিদ। দীর্ঘদিন ধরে বিজয়ের আইনি ও পেশাগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। বাণিজ্য, আইন ও ব্যবসা প্রশাসনে পড়াশোনা করা এই নেতা এবার মাইলাপোর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত
নতুন এই মন্ত্রিসভা নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা এখন তুঙ্গে। অনেকের মতে, শুধুমাত্র প্রচলিত রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর না করে বিজয় সমাজের বিভিন্ন পেশা ও প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সামনে নিয়ে আসতে চেয়েছেন। এতে করে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত ও পেশাজীবী সমাজের কাছেও নতুন বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তার দল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















