০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা স্টারমার সংকটে ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর অসুখ ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের আলোচনা ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন

কবর থেকে বাবার মরদেহ তোলার চেষ্টা, পশ্চিম তীরে নতুন আতঙ্কে ফিলিস্তিনি পরিবার

বাবাকে দাফন করে মাত্র বাড়ি ফিরেছেন মোহাম্মদ আসাসা। পরিবারের সবাই তখনও শোকের মধ্যে ডুবে। এমন সময় গ্রামের কয়েকজন শিশু দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলে, “বসতিস্থাপনকারীরা কবর খুঁড়ছে!”

পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে ছোট্ট গ্রাম আসাসায় এই ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটির দাবি, দাফনের কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী কবরস্থানে ঢুকে সদ্য কবর দেওয়া মরদেহ তুলতে চেষ্টা করে।

পরিবারের কর্তা ৮০ বছর বয়সি হুসেইন আসাসা স্বাভাবিক কারণে মারা যান। তিনি এলাকায় একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জীবনের বড় অংশ পশু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১০ সন্তানের বাবা ছিলেন।

ইসলামী রীতি অনুযায়ী গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কবরস্থানটি গ্রামের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি ছোট পাহাড়ের ওপর অবস্থিত।

দাফনের আগেই অনুমতি নিয়েছিলেন ছেলে

A man in a striped white and blue shirt sits in front of tapestry wall sheets, with people sitting down in the background.

হুসেইনের ছেলে মোহাম্মদ আসাসা জানান, কোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে তিনি আগে থেকেই কাছের ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অনুমতি নিয়েছিলেন যাতে জানাজা ও দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

কিন্তু দাফনের আধাঘণ্টা না পেরোতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মোহাম্মদ ও তার ভাইয়েরা কবরস্থানের কাছে পৌঁছে দেখেন, কয়েকজন সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ভারী সরঞ্জাম দিয়ে নতুন কবর খুঁড়ছে।

তিনি বলেন, প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

“তারা কবরের ভেতরে পৌঁছে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল বাবার মরদেহ বের করে ফেলবে। তখনই আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়,” বলেন মোহাম্মদ।

গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ

এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “এখন তারা পুরো এলাকাকেই নিজেদের মনে করছে। জমি, কবরস্থান, সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।”

A newly dug grave, with dirt in the centre surrounded by rocks of varying sizes.

আরেকজন জানান, তাদের আত্মীয়দের জলপাই গাছের জমিও সম্প্রতি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা দখল করে গাছ কেটে ফেলেছে।

বন্ধ সামরিক এলাকা ঘোষণা

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সা-নুর এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা “বন্ধ সামরিক অঞ্চল” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে গ্রামের মানুষ নিজেদের জলপাই বাগান, কৃষিজমি এমনকি কবরস্থানেও স্বাভাবিকভাবে যেতে পারছেন না। বাস্তবে পুরো এলাকা এখন তাদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা ও ভয়ের চিত্র তুলে ধরছে।

হুসেইন আসাসার পরিবারের সদস্যরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, একজন মৃত মানুষও সেখানে শান্তিতে থাকতে পারছেন না।

A picture of Hussein Asasa hanging in the air.

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

কবর থেকে বাবার মরদেহ তোলার চেষ্টা, পশ্চিম তীরে নতুন আতঙ্কে ফিলিস্তিনি পরিবার

১২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাবাকে দাফন করে মাত্র বাড়ি ফিরেছেন মোহাম্মদ আসাসা। পরিবারের সবাই তখনও শোকের মধ্যে ডুবে। এমন সময় গ্রামের কয়েকজন শিশু দৌড়ে এসে চিৎকার করে বলে, “বসতিস্থাপনকারীরা কবর খুঁড়ছে!”

পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে ছোট্ট গ্রাম আসাসায় এই ঘটনায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটির দাবি, দাফনের কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী কবরস্থানে ঢুকে সদ্য কবর দেওয়া মরদেহ তুলতে চেষ্টা করে।

পরিবারের কর্তা ৮০ বছর বয়সি হুসেইন আসাসা স্বাভাবিক কারণে মারা যান। তিনি এলাকায় একজন সম্মানিত মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জীবনের বড় অংশ পশু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১০ সন্তানের বাবা ছিলেন।

ইসলামী রীতি অনুযায়ী গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। কবরস্থানটি গ্রামের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি ছোট পাহাড়ের ওপর অবস্থিত।

দাফনের আগেই অনুমতি নিয়েছিলেন ছেলে

A man in a striped white and blue shirt sits in front of tapestry wall sheets, with people sitting down in the background.

হুসেইনের ছেলে মোহাম্মদ আসাসা জানান, কোনো ধরনের ঝামেলা এড়াতে তিনি আগে থেকেই কাছের ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অনুমতি নিয়েছিলেন যাতে জানাজা ও দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

কিন্তু দাফনের আধাঘণ্টা না পেরোতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মোহাম্মদ ও তার ভাইয়েরা কবরস্থানের কাছে পৌঁছে দেখেন, কয়েকজন সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ভারী সরঞ্জাম দিয়ে নতুন কবর খুঁড়ছে।

তিনি বলেন, প্রথমে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলে থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

“তারা কবরের ভেতরে পৌঁছে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল বাবার মরদেহ বের করে ফেলবে। তখনই আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়,” বলেন মোহাম্মদ।

গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ

এই ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় ভয় ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে।

গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “এখন তারা পুরো এলাকাকেই নিজেদের মনে করছে। জমি, কবরস্থান, সবকিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।”

A newly dug grave, with dirt in the centre surrounded by rocks of varying sizes.

আরেকজন জানান, তাদের আত্মীয়দের জলপাই গাছের জমিও সম্প্রতি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীরা দখল করে গাছ কেটে ফেলেছে।

বন্ধ সামরিক এলাকা ঘোষণা

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সা-নুর এলাকায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা “বন্ধ সামরিক অঞ্চল” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এর ফলে গ্রামের মানুষ নিজেদের জলপাই বাগান, কৃষিজমি এমনকি কবরস্থানেও স্বাভাবিকভাবে যেতে পারছেন না। বাস্তবে পুরো এলাকা এখন তাদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা ও ভয়ের চিত্র তুলে ধরছে।

হুসেইন আসাসার পরিবারের সদস্যরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাদের অভিযোগ, একজন মৃত মানুষও সেখানে শান্তিতে থাকতে পারছেন না।

A picture of Hussein Asasa hanging in the air.