ইরানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটির পুলিশ প্রধান কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা বিদেশি শক্তির আহ্বানে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নেবে, তাদের রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পুলিশ প্রধান আহমেদ-রেজা রাদান বলেন, শত্রুদের আহ্বানে কেউ যদি রাস্তায় নেমে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দেশের বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
বিদেশি আহ্বানে বিক্ষোভের অভিযোগ
রাদান তার বক্তব্যে বলেন, বিদেশি শক্তি ইরানের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং কিছু মানুষকে উসকে দিয়ে বিক্ষোভে নামানোর চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
তার মতে, যারা এই আহ্বানে সাড়া দেবে তারা শুধু প্রতিবাদকারী নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কাজ করা একটি শক্তির অংশ হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের পর উত্তেজনা
ইরানের এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরোধীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানিদের সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এই আহ্বানের পর থেকেই ইরানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিদেশি শক্তি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
ইরানের পুলিশ প্রধানের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, সম্ভাব্য বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত। সরকারবিরোধী যেকোনো আন্দোলনকে তারা দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার দিকে ঝুঁকছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















