মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রাজধানী তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার মধ্যেই ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চায় না। একই সময় হরমুজ প্রণালি ঘিরে কড়া হুমকি বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সংঘাতের পটভূমি
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। সেই হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার তেহরান সতর্ক করে জানায়, যদি হামলা অব্যাহত থাকে তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোনো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি চায় না। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, আগ্রাসনের জবাব দেওয়া জরুরি।
তার ভাষায়, আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দিতে হবে এবং এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ ইরানের ওপর হামলা করার সাহস না পায়।
গালিবাফ ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কমান্ডার এবং খামেনির মৃত্যুর পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, মঙ্গলবার ইরানের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড়। তিনি বলেন, এদিন সবচেয়ে বেশি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে।
এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
ইরানের নৌ হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।
এ অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যেন প্রণালিতে মাইন পেতে নৌ চলাচল আরও ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















