১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
সৌদি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ডিজেল সংকটে চট্টগ্রামের নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত, রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে চাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সিলেটে জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট, ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা, বাজারে আতঙ্ক কমাতে নতুন নির্দেশনা তেল না পেয়ে পাম্প থেকে ফিরছেন চালকেরা, বাড়ছে ভোগান্তি ঈদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা, জ্বালানি সংকটে বাড়তে পারে যাত্রী দুর্ভোগ জ্বালানি তেলে রেশনিং চলছেই, কমেনি জনভোগান্তি এশিয়ায় এলএনজির স্পট মূল্য দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর আশঙ্কা, উদ্বেগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আইনপ্রণেতা। গোপন ব্রিফিংয়ের পর তারা আশঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

সংঘাতের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠকের পর কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি এমন এক পথে এগোচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের দিকে যেতে পারে। তার মতে, প্রশাসনের ব্যাখ্যা শুনে তিনি সন্তুষ্ট নন এবং এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

US lawmakers worry Trump may put 'boots on the ground' in Iran | Reuters

যুদ্ধের খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন
ব্লুমেনথাল বলেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, কতদিন চলতে পারে এবং এতে মার্কিন সেনাদের কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে—এসব বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই।

তিনি বলেন, মার্কিন জনগণের জানা উচিত এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় কত, ইউনিফর্ম পরা তাদের সন্তানদের জন্য কী ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে এবং এই সংঘাত আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কতটা।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন। তিনি বলেন, প্রশাসনের ব্রিফিং স্পষ্টতা আনার বদলে আরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ নয়
হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে। তবে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, খুব শক্ত কোনো কারণ থাকলেই কেবল স্থলসেনা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হবে।

From Signalgate to Iran: From Signalgate to Iran: Half of Republican aides  in Congress say Hegseth is hurting Trump's foreign agenda | The Independent

গোপনে বিকল্প পরিকল্পনার আলোচনা
খবরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে সীমিত পরিসরের কিছু বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর একটি পরিকল্পনায় মার্কিন বা ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর ছোট দল পাঠিয়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিরাপদ করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় আছে।

ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এমন একটি অভিযান সম্ভব হতে পারে, তবে তা এখনই ঘটবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সময় এমন কিছু করা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এমন হলে ইরান এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে তারা স্থলযুদ্ধে টিকতে পারবে না।

যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য নিয়ে অস্পষ্টতা
যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে ট্রাম্প এখনও স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি। তিনি ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও অভিযান কতদিন চলবে সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

কখনও তিনি বলেছেন চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগতে পারে, আবার কখনও বলেছেন যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে। আবার কখনও এটিকে স্বল্পমেয়াদি একটি অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন যা খুব দ্রুত শেষ হবে।

US strikes Iran: This time it's Trump's war | Vox

সংঘাতের শুরু ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ করে দেয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের সামরিক ও নেতৃত্ব পর্যায়ের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এরপর অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এসব হামলায় অন্তত আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৪০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

US lawmakers worry Trump may send ground troops to Iran ...News

কংগ্রেসে বাড়ছে চাপ
এই অনিশ্চয়তার কারণে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। অনেক আইনপ্রণেতার অভিযোগ, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কিছু ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি শপথ নিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসে সাক্ষ্য না দেন, তাহলে তারা সিনেটের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ ব্যবহার করে আইন প্রণয়নের কাজ ধীর করে দিতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর আশঙ্কা, উদ্বেগে মার্কিন আইনপ্রণেতারা

১১:১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক আইনপ্রণেতা। গোপন ব্রিফিংয়ের পর তারা আশঙ্কা করছেন, শেষ পর্যন্ত ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হতে পারে।

সংঘাতের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠকের পর কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বলেন, যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি এমন এক পথে এগোচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের দিকে যেতে পারে। তার মতে, প্রশাসনের ব্যাখ্যা শুনে তিনি সন্তুষ্ট নন এবং এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

US lawmakers worry Trump may put 'boots on the ground' in Iran | Reuters

যুদ্ধের খরচ ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন
ব্লুমেনথাল বলেন, যুদ্ধের সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, কতদিন চলতে পারে এবং এতে মার্কিন সেনাদের কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে—এসব বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য নেই।

তিনি বলেন, মার্কিন জনগণের জানা উচিত এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় কত, ইউনিফর্ম পরা তাদের সন্তানদের জন্য কী ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে এবং এই সংঘাত আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কতটা।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন। তিনি বলেন, প্রশাসনের ব্রিফিং স্পষ্টতা আনার বদলে আরও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ নয়
হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে। তবে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, খুব শক্ত কোনো কারণ থাকলেই কেবল স্থলসেনা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হবে।

From Signalgate to Iran: From Signalgate to Iran: Half of Republican aides  in Congress say Hegseth is hurting Trump's foreign agenda | The Independent

গোপনে বিকল্প পরিকল্পনার আলোচনা
খবরে বলা হয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে সীমিত পরিসরের কিছু বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর একটি পরিকল্পনায় মার্কিন বা ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনীর ছোট দল পাঠিয়ে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিরাপদ করার সম্ভাবনাও বিবেচনায় আছে।

ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে এমন একটি অভিযান সম্ভব হতে পারে, তবে তা এখনই ঘটবে না। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সময় এমন কিছু করা হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এমন হলে ইরান এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে তারা স্থলযুদ্ধে টিকতে পারবে না।

যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য নিয়ে অস্পষ্টতা
যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে ট্রাম্প এখনও স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি। তিনি ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও অভিযান কতদিন চলবে সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

কখনও তিনি বলেছেন চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ লাগতে পারে, আবার কখনও বলেছেন যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে। আবার কখনও এটিকে স্বল্পমেয়াদি একটি অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন যা খুব দ্রুত শেষ হবে।

US strikes Iran: This time it's Trump's war | Vox

সংঘাতের শুরু ও বর্তমান পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বন্ধ করে দেয় এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের সামরিক ও নেতৃত্ব পর্যায়ের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এরপর অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান।

এসব হামলায় অন্তত আটজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৪০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

US lawmakers worry Trump may send ground troops to Iran ...News

কংগ্রেসে বাড়ছে চাপ
এই অনিশ্চয়তার কারণে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। অনেক আইনপ্রণেতার অভিযোগ, যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কে কংগ্রেসকে পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কিছু ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইতিমধ্যে সতর্ক করেছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি শপথ নিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসে সাক্ষ্য না দেন, তাহলে তারা সিনেটের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ ব্যবহার করে আইন প্রণয়নের কাজ ধীর করে দিতে পারেন।