ইরানের রাজধানী তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সরকার দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান।
তেহরানে বিস্ফোরণের ঘটনা
রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতভর আকাশে বিস্ফোরণ ও আগুনের আলো দেখা যায়। অনেক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব বিস্ফোরণ মূলত বিদেশি বাহিনীর বিমান হামলার ফল। সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও বেসামরিক এলাকাও আঘাতের মুখে পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

ইরানের দাবি: ব্যাপক বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা অবকাঠামো।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংঘাতের তীব্রতা বাড়ছে
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণ ও হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
অনেক দেশই যুদ্ধবিরতি ও সংযমের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি কমানো যায় এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে।
মানবিক সংকটের আশঙ্কা
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















