হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত নয় যে ইরান সেখানে মাইন পেতেছে কি না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, যদি সত্যিই এমন কিছু করা হয়ে থাকে, তবে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের সতর্কতা
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতেছে। তবে যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে ইরানকে তা দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে।
এই সতর্কবার্তাকে অনেকেই এক ধরনের কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন। কারণ, ট্রাম্পের বক্তব্যে যেমন অনিশ্চয়তার কথা বলা হয়েছে, তেমনি সম্ভাব্য পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক সূত্রের সন্দেহ
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বা ইতোমধ্যে তা স্থাপন করেছে।
এই খবর প্রকাশের পরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
মার্কিন হামলার দাবি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের প্রায় ১৬টি মাইন বসানোর নৌযানে হামলা চালিয়েছে।
এই ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। প্রায় ৩৪ কিলোমিটার প্রস্থের এই সরু সমুদ্রপথের এক পাশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের হাতে।
কুয়েত, ইরাক, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠাতে এই পথই প্রধান সমুদ্রপথ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সমুদ্রপথে বের হওয়ার জন্য এটিই কার্যত একমাত্র রুট।
এ কারণে প্রণালীটি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও তার বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা ইরানের নৌবাহিনীকে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত করতে ইরানের বড় যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজন নেই।
ছোট সাবমেরিন, দ্রুতগতির স্পিডবোট বা ছোট নৌযান ব্যবহার করেও ইরান বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।

ভুল তথ্য নিয়ে বিতর্ক
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব একসময় সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে তেলবাহী জাহাজে হামলা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
কিন্তু পরে তিনি সেই পোস্ট মুছে ফেলেন, কারণ পরে দেখা যায় এ ধরনের হামলার কোনো নিশ্চিত তথ্য তখন পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি রুটে উত্তেজনা বাড়লে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















