চট্টগ্রামে ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় নদীপথে পণ্য পরিবহন ও রপ্তানি কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্র থেকে বন্দরে পণ্য আনার কাজে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলোর চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জাহাজ পণ্য নিয়ে কর্ণফুলী নদীতে অপেক্ষা করছে এবং নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
নদীপথে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজের গুরুত্ব
দেশে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ৫০টি লাইটার জাহাজ নদীপথে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত। এসব জাহাজ গভীর সমুদ্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এবং সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি জাহাজ পণ্য পরিবহনের অনুমতি পায়। তবে ডিজেলের ঘাটতির কারণে অনেক জাহাজ এখন নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারছে না। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় একটি জাহাজ পরিচালনা করতে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্ণফুলী নদীতে জাহাজের অপেক্ষা
জ্বালানি সংকটের প্রভাবে কর্ণফুলী নদীতে পণ্য বোঝাই জাহাজের ভিড় বাড়ছে। অনেক জাহাজ পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় তারা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছে না। এতে পণ্য পরিবহন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব দেখা দিচ্ছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে।
বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতেও সংকট
চট্টগ্রামের ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতেও একই ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এসব ডিপো সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ কমে যাওয়ায় রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে এবং পণ্য হ্যান্ডলিং কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।
সরবরাহ কমানোর সরকারি নির্দেশনা
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন ও বন্দরসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















