অসলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে সপ্তাহান্তে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে নরওয়ের পুলিশ। বিস্ফোরণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসী বোমা হামলা’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নরওয়ের পুলিশ ১১ মার্চ জানায়, সন্দেহভাজন তিন ভাইকে অসলো থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা নরওয়ের নাগরিক এবং ইরাকি বংশোদ্ভূত। পুলিশ এখনো হামলার পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।

তদন্তে একাধিক সম্ভাবনা
পুলিশ প্রসিকিউটর ক্রিস্টিয়ান হাতলো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তদন্তকারীরা একাধিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখনো বিভিন্ন অনুমান নিয়ে কাজ করছি। এর মধ্যে একটি সম্ভাবনা হলো, এটি কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশ হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “লক্ষ্যবস্তু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এমন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক।”
হাতলো জানান, তিন ভাইয়ের প্রত্যেকে এই ঘটনায় কী ভূমিকা পালন করেছে তা স্পষ্ট করার জন্য তদন্ত চলছে। তাদের বয়স বিশের কোঠায় এবং এর আগে তারা পুলিশের নজরে আসেনি।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করছি, তাদের একজন দূতাবাসের বাইরে বোমা রেখে আসে এবং বাকি দুজন ওই কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছে।”
একজন সন্দেহভাজনের স্বীকারোক্তি
সন্দেহভাজনদের একজনের আইনজীবী ওইস্টেইন স্টরভিক নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম টিভি টু-কে জানান, তার মক্কেল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
স্টরভিক বলেন, “তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি সেখানে বোমাটি রেখেছিলেন।”
তিনি আরও জানান, তার মক্কেলকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তিনি ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আইনজীবী বলেন, “তিনি কী ঘটেছিল তা ব্যাখ্যা করেছেন। আপাতত এ বিষয়ে আমার আর কোনো মন্তব্য নেই।”
অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্র

যদিও তিন ভাই আগে পুলিশের নজরে ছিল না, তবুও তদন্তকারীরা সম্ভাব্য অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
নরওয়ের নিরাপত্তা সংস্থা তাদের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়নে ফেব্রুয়ারিতে জানায়, ইরান দেশটির জন্য অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচিত। সংস্থাটি বলেছে, ইরান এমন হামলা চালাতে “প্রক্সি অভিনেতা” ব্যবহার করতে পারে, যার মধ্যে অপরাধী নেটওয়ার্কও থাকতে পারে।
তবে ১০ মার্চ অসলোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা জাহাঙ্গিরি এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তার দেশের কোনো সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নরওয়ের পত্রিকা ভারদেন্স গ্যাংকে তিনি বলেন, “আমাদের আলাদাভাবে দায়ী করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
তদন্তে পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকেও এ কাজ করে থাকতে পারে।
বিশ্বজুড়ে সতর্কতা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় শিল্প ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অসলোতে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে ৮ মার্চ রাত প্রায় ১টার দিকে, দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগের প্রবেশপথের কাছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও রহস্যময় ভিডিও
৯ মার্চ পুলিশ নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দুটি ছবি প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি কালো পোশাক পরা, মাথায় হুড এবং পিঠে একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাঁটছেন।
ঘটনার সময়ের কাছাকাছি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের গুগল ম্যাপস পাতায় একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল।
পরে সরিয়ে ফেলা সেই ভিডিওতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা যায়, যিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন।
নরওয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওটি আপলোডকারী ব্যক্তি ফারসি ভাষায় লিখেছিলেন, “আল্লাহ মহান। আমরা বিজয়ী।”
এই ভিডিওর ঘটনাটিও পুলিশ আলাদাভাবে তদন্ত করছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















