০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ ইরান যুদ্ধ ঘিরে ট্রাম্পের উত্তরসূরি দৌড়ে ভ্যান্স বনাম রুবিও, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ ট্রাম্প নীতির আগাম ইঙ্গিতে কোটি ডলারের বাজি—ভেতরের তথ্য ফাঁসের সন্দেহে তদন্তের দাবি রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ: নিরাপত্তার নামে নতুন সংকট ঈদ ছুটি ২০২৬: সড়ক-নদীপথে মৃত্যুর মিছিল, ব্যর্থতার চক্রেই বন্দী ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব, নাকি আরও বড় সংঘাতের পথে বিশ্ব? হীরার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চায় বতসোয়ানা—ঝুঁকি না সুযোগ? ইরানের নতুন শাসকগোষ্ঠী: ধর্মতন্ত্র থেকে সামরিক শাসনের দিকে মোড় যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের পরেই পানি—উপসাগর ও ইরানের সামনে নতুন সংকট ইরানে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের নতুন অধ্যায়: নাগরিকদের বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় সমর্থন পাকিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর

পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিদার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন প্রকাশ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি তুলে ধরতেই এই অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।

ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট (এফবিএম) গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে “সাহসী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করে। এই বিবৃতি এমন এক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে স্বাগত

এফবিএম তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেওয়া পদক্ষেপকে তারা প্রশংসা করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, পশ্চিমা দেশ ও অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও কার্যকর ও সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি

ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন, যার ভিত্তি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে। বহুদিন ধরেই তারা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।

সংগঠনটি ‘গ্রেটার বেলুচিস্তান’ ধারণার পক্ষেও প্রচার চালায়। এই ধারণা অনুযায়ী একটি বৃহত্তর বেলুচিস্তান অঞ্চল গঠনের কথা বলা হয়, যার বিস্তার পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান ও আফগানিস্তানের কিছু অংশেও থাকবে।

এফবিএমের সঙ্গে বেলুচ লিবারেশন আর্মি–আজাদ (বিএলএ–আজাদ) নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বিএলএ–আজাদ মূলত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) থেকে ২০১৭ সালে আলাদা হয়ে গঠিত দুটি অংশের একটি। এই সংগঠন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং চীনের অবকাঠামো প্রকল্পে হামলার জন্য পরিচিত। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিবৃতি দিয়ে এফবিএম মূলত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নজর কাড়তে চাইছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানোবর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চীমা বলেন, এই বার্তার মাধ্যমে সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চাইছে যে তারা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

তার মতে, এটি রাজনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ারও একটি প্রচেষ্টা।

অঞ্চলের সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন বিশ্লেষক কিয়্যা বেলুচও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো সরাসরি সামরিক সহায়তা না দিলেও রাজনৈতিক লবিং, আন্তর্জাতিক প্রচার কিংবা গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন ধরনের সমর্থন দিতে পারে।

ইরান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনীতি

এফবিএমের এই বিবৃতি এমন সময় এসেছে যখন ইরানের ভেতরে এবং ইরান–ইরাক সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ছে।

অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের ব্যবহার করতে পারে কি না—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ফেলো জাহিদ শাহাব বলেন, ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বসবাসকারী কুর্দি ও বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসনের দাবি বা বিদ্রোহের ইতিহাস রয়েছে। তাই পশ্চিমা নীতিনির্ধারণী আলোচনায় মাঝেমধ্যেই তাদের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

তার মতে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে এফবিএম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়

তবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

একইভাবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি ইসরায়েল সরাসরি সমর্থন দেবে—এমন প্রমাণও এখনো পাওয়া যায়নি।

সব গোষ্ঠীর অবস্থান এক নয়

পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের সব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলাকে সমর্থন করেনি।

বিএলএ–জেয়ান্ড, যারা গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল, তারা এখন পর্যন্ত ইরান সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি।

আরেকটি বড় গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্টও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্ন অবস্থানের মূল কারণ আঞ্চলিক লক্ষ্য নিয়ে পার্থক্য। বিএলএ–জেয়ান্ড ও বিএলএফ মূলত পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতার দিকে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে এফবিএম পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান—তিন দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃহত্তর বেলুচিস্তান গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ

এফবিএমের বিবৃতি পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কারণ ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে যদি তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব পাকিস্তানের বেলুচিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ দেশটি ইতোমধ্যে আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় সহিংস সংঘাতের চাপে রয়েছে।

বিশ্লেষক কিয়্যা বেলুচ সতর্ক করে বলেন, ইরানের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যদি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বা সংঘাতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সশস্ত্র গোষ্ঠী, সংগঠিত অপরাধচক্র ও পাচারকারীরা সীমান্ত এলাকায় সহজে সক্রিয় হতে পারে।

কামার চীমা বলেন, ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তানে যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে তারা পাকিস্তানেও হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

তার মতে, কোনো রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী সব সময়ই নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় সমর্থন পাকিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর

০৭:০১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিদার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন প্রকাশ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি তুলে ধরতেই এই অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।

ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট (এফবিএম) গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে “সাহসী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করে। এই বিবৃতি এমন এক অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা জটিলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল।

আন্তর্জাতিক পদক্ষেপকে স্বাগত

এফবিএম তাদের বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেওয়া পদক্ষেপকে তারা প্রশংসা করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, পশ্চিমা দেশ ও অন্যান্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর পদক্ষেপকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং অঞ্চলে টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা আরও কার্যকর ও সমন্বিত হওয়া প্রয়োজন।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি

ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন, যার ভিত্তি পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে। বহুদিন ধরেই তারা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।

সংগঠনটি ‘গ্রেটার বেলুচিস্তান’ ধারণার পক্ষেও প্রচার চালায়। এই ধারণা অনুযায়ী একটি বৃহত্তর বেলুচিস্তান অঞ্চল গঠনের কথা বলা হয়, যার বিস্তার পাকিস্তানের পাশাপাশি ইরান ও আফগানিস্তানের কিছু অংশেও থাকবে।

এফবিএমের সঙ্গে বেলুচ লিবারেশন আর্মি–আজাদ (বিএলএ–আজাদ) নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বিএলএ–আজাদ মূলত বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) থেকে ২০১৭ সালে আলাদা হয়ে গঠিত দুটি অংশের একটি। এই সংগঠন পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং চীনের অবকাঠামো প্রকল্পে হামলার জন্য পরিচিত। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিবৃতি দিয়ে এফবিএম মূলত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নজর কাড়তে চাইছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানোবর ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চীমা বলেন, এই বার্তার মাধ্যমে সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চাইছে যে তারা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

তার মতে, এটি রাজনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ারও একটি প্রচেষ্টা।

অঞ্চলের সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন বিশ্লেষক কিয়্যা বেলুচও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি শক্তিগুলো সরাসরি সামরিক সহায়তা না দিলেও রাজনৈতিক লবিং, আন্তর্জাতিক প্রচার কিংবা গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন ধরনের সমর্থন দিতে পারে।

ইরান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক রাজনীতি

এফবিএমের এই বিবৃতি এমন সময় এসেছে যখন ইরানের ভেতরে এবং ইরান–ইরাক সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ছে।

অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের ব্যবহার করতে পারে কি না—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ফেলো জাহিদ শাহাব বলেন, ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বসবাসকারী কুর্দি ও বেলুচ জাতিগোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসনের দাবি বা বিদ্রোহের ইতিহাস রয়েছে। তাই পশ্চিমা নীতিনির্ধারণী আলোচনায় মাঝেমধ্যেই তাদের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

তার মতে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে এফবিএম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ হিসেবে দেখছে।

সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়

তবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর পক্ষে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

একইভাবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি ইসরায়েল সরাসরি সমর্থন দেবে—এমন প্রমাণও এখনো পাওয়া যায়নি।

সব গোষ্ঠীর অবস্থান এক নয়

পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের সব বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী কিন্তু ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলাকে সমর্থন করেনি।

বিএলএ–জেয়ান্ড, যারা গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল, তারা এখন পর্যন্ত ইরান সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেয়নি।

আরেকটি বড় গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্টও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভিন্ন অবস্থানের মূল কারণ আঞ্চলিক লক্ষ্য নিয়ে পার্থক্য। বিএলএ–জেয়ান্ড ও বিএলএফ মূলত পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতার দিকে মনোযোগ দেয়। অন্যদিকে এফবিএম পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান—তিন দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বৃহত্তর বেলুচিস্তান গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা উদ্বেগ

এফবিএমের বিবৃতি পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কারণ ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে যদি তেহরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব পাকিস্তানের বেলুচিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে সেখানকার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতি পাকিস্তানের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, কারণ দেশটি ইতোমধ্যে আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় সহিংস সংঘাতের চাপে রয়েছে।

বিশ্লেষক কিয়্যা বেলুচ সতর্ক করে বলেন, ইরানের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ যদি অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বা সংঘাতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সশস্ত্র গোষ্ঠী, সংগঠিত অপরাধচক্র ও পাচারকারীরা সীমান্ত এলাকায় সহজে সক্রিয় হতে পারে।

কামার চীমা বলেন, ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তানে যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে তারা পাকিস্তানেও হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

তার মতে, কোনো রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে এমন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠী সব সময়ই নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে।