ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার তহবিল চাইতে পারে। কংগ্রেসের একাধিক সহকারী জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস খুব শিগগিরই যুদ্ধ পরিচালনার জন্য এই অতিরিক্ত অর্থের আবেদন জমা দিতে পারে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, সংঘাতের ব্যাপ্তি বিবেচনায় এই অঙ্কও কম হতে পারে।
যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে বিপুল ব্যয়
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এই তথ্য ১১ মার্চ একটি সূত্র জানায়।
১০ মার্চ সিনেটরদের জন্য অনুষ্ঠিত একটি গোপন বৈঠকে এই হিসাব তুলে ধরা হয়। কর্মকর্তারা জানান, এটি যুদ্ধের মোট ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব নয়; বরং আইনপ্রণেতাদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার জন্য এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত তহবিলের প্রস্তুতি
কংগ্রেসের একাধিক সহকারী বলেছেন, হোয়াইট হাউস যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য কংগ্রেসে আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, এই তহবিলের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে অন্যরা মনে করছেন, সংঘাতের প্রকৃতি ও বিস্তার বিবেচনায় এই অঙ্ক আরও বড় হতে পারে।
মোট ব্যয় ও যুদ্ধের সময়কাল অনিশ্চিত
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে যুদ্ধের মোট ব্যয় কিংবা যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মূল্যায়ন দেয়নি।
১১ মার্চ কেন্টাকিতে এক সফরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছি।” তবে তিনি জানান, কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে অবস্থান বজায় রাখবে।
যুদ্ধের সূচনা ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতি
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়।
এরপর সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে লেবাননেও ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইরান ও লেবাননের নাগরিক।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থায়। এতে বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রথম দুই দিনেই বিপুল অস্ত্র ব্যবহার
প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানান, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে।
এই তথ্য কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা
কংগ্রেসের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে।
এ সময় প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাতটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পেন্টাগন বর্তমানে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত দ্রুত পুনরায় পূরণ করার চেষ্টা করছে।
ডেমোক্র্যাটদের জবাবদিহির দাবি
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের শপথ নিয়ে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা বিশেষ করে জানতে চাইছেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে এবং সংঘাত শেষ হলে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















