গত সপ্তাহে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের ধাক্কা খাওয়ার পর নতুন সপ্তাহের শুরুতেই কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে ভারতের শেয়ারবাজার। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে—এমন আশাবাদ বিনিয়োগকারীদের মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক করেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে।
পতনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
সোমবার বাজার খোলার আগে সূচকভিত্তিক লেনদেনের ইঙ্গিত বলছে, প্রধান সূচক নিফটি আগের দিনের তুলনায় কিছুটা ওপরে শুরু করতে পারে। গত শুক্রবার নিফটি সূচক বন্ধ হয়েছিল ২৩,১৫১ দশমিক ১০ পয়েন্টে। তবে নতুন সপ্তাহে সূচক বাড়তে পারে—এমন আভাস পাওয়ায় বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা লাগে। নিফটি প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সেনসেক্স ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এটি নিফটির জন্য ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর এবং সেনসেক্সের জন্য ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে স্বস্তির বার্তা
বাজারে নতুন আশার বড় কারণ জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি। বৈশ্বিক তেলের বড় অংশ যেখান দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে কয়েকটি দেশ একসঙ্গে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে—এমন খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে যায়। তাই সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ভারতের জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক স্বস্তি
এদিকে ভারতের পতাকাবাহী দুটি তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী জাহাজ সম্প্রতি নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছানোর পথে রয়েছে। প্রায় ৯২ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন গ্যাস বহনকারী এই জাহাজ দুটি নিরাপদে চলাচল করায় সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্করও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর মতে, সংলাপের মাধ্যমে কিছু ফলও মিলতে শুরু করেছে।

যুদ্ধের প্রভাব এখনো কাটেনি
তবে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বিনিয়োগকারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমার স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় আছেন। কারণ দীর্ঘস্থায়ী স্বস্তি পেতে হলে উত্তেজনা কমা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এখনো তেলের দামে বড় চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় রুপিও রেকর্ড নিম্নমুখী অবস্থানে রয়েছে।
কর্পোরেট খাতেও প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানও সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছে। কয়েকটি কোম্পানি উৎপাদন বা সরবরাহে সমস্যার কথা জানিয়েছে। কোথাও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, আবার কোথাও প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ধীর হয়েছে।
তবে বাজারের দৃষ্টি এখন মূলত জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির দিকে। যদি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে এবং উত্তেজনা কিছুটা কমে, তাহলে সাম্প্রতিক পতনের পর ভারতীয় শেয়ারবাজার আবার ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















