বিশ্ববাজারে সোনার দামে সামান্য পতন দেখা গেছে। জ্বালানি তেলের দাম উঁচুতে অবস্থান করায় যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে গেছে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকায় সোনার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ডলারের কিছুটা দুর্বলতা এই পতনকে আংশিকভাবে সীমিত করেছে।
সোনার দামে সামান্য পতন
সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় শূন্য দশমিক দুই শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার সাত ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে আগামী এপ্রিলের সোনার চুক্তির দামও প্রায় এক শতাংশ কমে পাঁচ হাজার এগারো ডলারের আশেপাশে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কমে গেলে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।

তেলের দাম একশ ডলারের ওপরে
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনও প্রতি ব্যারেল একশ ডলারের ওপরে রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা
তেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সুদের হার বেশি থাকলে সোনার আকর্ষণ কমে যায়, কারণ সোনা থেকে সরাসরি সুদ পাওয়া যায় না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্য যদি আরও বাড়তে থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে সতর্ক অবস্থানে থাকে, তাহলে বাস্তব সুদের হার উঁচু থাকতে পারে। এতে সোনার বাজারে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
সুদের হার স্থির রাখার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। টানা দ্বিতীয় বৈঠকেও যদি সুদের হার অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে অবস্থান নির্ধারণ করতে পারেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
:max_bytes(150000):strip_icc()/united-states-federal-reserve-building--washington-dc--usa-699686820-4fe8a5acea0b451b8998d683dfcd87db.jpg)
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লক্ষ্য হচ্ছে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ রাখা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা।
তবে একই সঙ্গে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্রেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

অন্যান্য ধাতুর বাজার
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কিছুটা কমেছে। প্রতি আউন্স রুপার দাম প্রায় এক দশমিক দুই শতাংশ কমে প্রায় ঊনআশি ডলারের কাছাকাছি নেমেছে। তবে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই তিনটি বিষয় আগামী কয়েক সপ্তাহে মূল্যবান ধাতুর বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















