ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থবাজারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যার ফলে নতুন সপ্তাহেও চাপের মধ্যে থাকতে পারে ভারতীয় রুপি ও সরকারি বন্ড বাজার।
রুপির রেকর্ড পতন
গত সপ্তাহে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৪৭৫০। যদিও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ দেশটির আমদানি ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানিনির্ভর।
![]()
বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা
বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে। গত সপ্তাহেই ডলারের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অর্থবিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এত বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আগে খুব কমই দেখা গেছে। এর ফলে উদীয়মান অর্থনীতির বাজার থেকে বিনিয়োগ সরতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নিয়েছেন। এতে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
সামনে আরও দুর্বল হতে পারে রুপি
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী এক বছরে রুপির মূল্য আরও কমতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডলারের বিপরীতে রুপি ৯৫ পর্যন্ত দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে বাজারের অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সক্রিয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বিনিময় হার রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
![]()
বন্ড বাজারেও চাপ
ভারতের দশ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার গত সপ্তাহের শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে। বড় বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের কারণে কিছুটা স্থিতি দেখা গেলেও তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সপ্তাহে এই সুদের হার ৬ দশমিক ৬২ থেকে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বন্ড বাজারের প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে সরকারি বন্ড কিনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক সপ্তাহেই তারা শত শত বিলিয়ন রুপি মূল্যের বন্ড ক্রয় করেছে, যা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আমদানি করা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে আর্থিক নীতিতে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















