০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কাগুজে তেল ডিজিটাল যুগে পাকিস্তানের সঙ্গীতের নতুন দিগন্ত, তবু রয়ে গেছে স্বীকৃতির সংকট খুশি নারীদের কেন টার্গেট করা হয়? অনলাইন বিষাক্ততার বিরুদ্ধে সরব হানিয়া আমির পালারি ফিল্মসের এক দশক: সোনালি ধারায় এগিয়ে চলা নারীর গল্পকে কেন পিছনে রাখা হচ্ছে: পাকিস্তানের বিনোদন জগতের অদৃশ্য বৈষম্যের গল্প ৫ টাকার সেলাই থেকে মাসে লাখ টাকা আয়, গ্রামের ছেলেটির অবিশ্বাস্য উত্থানের গল্প বালি ১৯৫২: লিউ কাংয়ের চোখে এক যাত্রার গল্প পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের মাঝে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তাপ, সীমা পুনর্বিন্যাসে বাড়ছে বিতর্ক পয়লা বৈশাখে ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, নির্বাচন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব তৃণমূল বঙ্গের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সরানোর হুঁশিয়ারি, নির্বাচনী মঞ্চে শাহর কড়া বার্তা

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় চাপে ভারতীয় রুপি ও বন্ড বাজার

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থবাজারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যার ফলে নতুন সপ্তাহেও চাপের মধ্যে থাকতে পারে ভারতীয় রুপি ও সরকারি বন্ড বাজার।

রুপির রেকর্ড পতন

গত সপ্তাহে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৪৭৫০। যদিও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ দেশটির আমদানি ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানিনির্ভর।

India faces rupee, inflation risks from Middle East energy disruption:  Moody's - The Economic Times

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা

বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে। গত সপ্তাহেই ডলারের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থবিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এত বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আগে খুব কমই দেখা গেছে। এর ফলে উদীয়মান অর্থনীতির বাজার থেকে বিনিয়োগ সরতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নিয়েছেন। এতে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

Indian Bonds: Biggest bond inflows in 7 months fail to rescue rupee,  ETEnergyworld

সামনে আরও দুর্বল হতে পারে রুপি

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী এক বছরে রুপির মূল্য আরও কমতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডলারের বিপরীতে রুপি ৯৫ পর্যন্ত দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বাজারের অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সক্রিয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বিনিময় হার রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Rupee falls to record low as fears of prolonged Mideast war hit Asia FX -  The Economic Times

বন্ড বাজারেও চাপ

ভারতের দশ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার গত সপ্তাহের শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে। বড় বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের কারণে কিছুটা স্থিতি দেখা গেলেও তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সপ্তাহে এই সুদের হার ৬ দশমিক ৬২ থেকে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বন্ড বাজারের প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২১০০ কোটি টাকার বন্ড আনছে তিন ব্যাংক

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে সরকারি বন্ড কিনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক সপ্তাহেই তারা শত শত বিলিয়ন রুপি মূল্যের বন্ড ক্রয় করেছে, যা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আমদানি করা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে আর্থিক নীতিতে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাগুজে তেল

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় চাপে ভারতীয় রুপি ও বন্ড বাজার

১২:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের অর্থবাজারে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যার ফলে নতুন সপ্তাহেও চাপের মধ্যে থাকতে পারে ভারতীয় রুপি ও সরকারি বন্ড বাজার।

রুপির রেকর্ড পতন

গত সপ্তাহে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এক পর্যায়ে ডলারের বিপরীতে রুপির মূল্য দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৪৭৫০। যদিও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ সামরিক সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ দেশটির আমদানি ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানিনির্ভর।

India faces rupee, inflation risks from Middle East energy disruption:  Moody's - The Economic Times

বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধাক্কা

বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে। গত সপ্তাহেই ডলারের মূল্য প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থবিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে এত বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আগে খুব কমই দেখা গেছে। এর ফলে উদীয়মান অর্থনীতির বাজার থেকে বিনিয়োগ সরতে শুরু করেছে।

বিশেষ করে মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ইতোমধ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিপুল অর্থ তুলে নিয়েছেন। এতে রুপির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

Indian Bonds: Biggest bond inflows in 7 months fail to rescue rupee,  ETEnergyworld

সামনে আরও দুর্বল হতে পারে রুপি

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী এক বছরে রুপির মূল্য আরও কমতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ডলারের বিপরীতে রুপি ৯৫ পর্যন্ত দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে বাজারের অতিরিক্ত অস্থিরতা ঠেকাতে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সক্রিয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে নির্দিষ্ট কোনো বিনিময় হার রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

Rupee falls to record low as fears of prolonged Mideast war hit Asia FX -  The Economic Times

বন্ড বাজারেও চাপ

ভারতের দশ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার গত সপ্তাহের শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে। বড় বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ের কারণে কিছুটা স্থিতি দেখা গেলেও তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সপ্তাহে এই সুদের হার ৬ দশমিক ৬২ থেকে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বন্ড বাজারের প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২১০০ কোটি টাকার বন্ড আনছে তিন ব্যাংক

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারে সরকারি বন্ড কিনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক সপ্তাহেই তারা শত শত বিলিয়ন রুপি মূল্যের বন্ড ক্রয় করেছে, যা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আমদানি করা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। সেই ক্ষেত্রে আর্থিক নীতিতে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।