৫২০ গিগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতা: সৌরশক্তির নেতৃত্বে রেকর্ড পরিষ্কার জ্বালানি সংযোজন
ভারত তার জাতীয় জ্বালানি রূপান্তরে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৫২ শতাংশের বেশি এখন নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য জীবাশ্ম-জ্বালানিহীন উৎস থেকে আসছে। ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৫,২০,৫১১ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২,৪৮,৫৪২ মেগাওয়াট জীবাশ্ম জ্বালানি উৎস থেকে এবং ২,৭১,৯৬৯ মেগাওয়াট জীবাশ্ম-জ্বালানিহীন উৎস থেকে আসছে। শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকেই আসছে ২,৬৩,১৮৯ মেগাওয়াট, যা মোট ক্ষমতার ৫০.৬ শতাংশ। ভারত প্যারিস চুক্তির আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ জীবাশ্ম-জ্বালানিহীন ক্ষমতায় পৌঁছানোর অঙ্গীকার করেছিল। সেই লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ বছর আগেই অর্জিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছিল, কিন্তু সর্বশেষ তথ্য দেখাচ্ছে যে অংশীদারিত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে (এপ্রিল ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬) মোট নতুন ক্ষমতা সংযোজন ছিল ৫২,৫৩৭ মেগাওয়াট, যা ভারতের ইতিহাসে একটি বছরে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে সৌরশক্তি একাই প্রায় ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বা মোট নতুন ক্ষমতার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করেছে। বিদ্যুতের এই সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য ক্ষমতা সংযোজনকে সহায়তা করেছে অনুকূল নীতি, পড়তে থাকা সোলার প্যানেলের মূল্য এবং প্রতিযোগিতামূলক নিলাম।
সঞ্চালন অবকাঠামো পিছিয়ে, গ্রিড চাপে
ঐতিহাসিক অর্জন সত্ত্বেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে এই রূপান্তর কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ছাড়া নয়। রাজস্থানের মতো শীর্ষ সৌরশক্তি উৎপাদনকারী রাজ্যে সঞ্চালন করিডোরে যানজটের কারণে সৌর বিদ্যুৎ কার্টেইলমেন্ট, অর্থাৎ উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠানো যাচ্ছে না, এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা বাড়ছে কিন্তু দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংযোজনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। সরকার ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে গ্রিন এনার্জি করিডোর প্রকল্পের আওতায় ছয় হাজার কিলোমিটার নতুন অন্তর্রাজ্য সঞ্চালন লাইনের জন্য নির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ করেছে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য ক্ষমতার দ্বিতীয় প্রজন্মের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা অর্জনের জন্য বার্ষিক প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















