০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক বৃষ্টিতে ভেসে উঠল হারানো নাম্বার প্লেট, আমিরাতে আবারও ২০২৪ সালের স্মৃতি ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় খাগড়াছড়িতে অভিযান, সুপারি বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ ইরান যুদ্ধ ঘিরে হঠাৎ পদত্যাগ, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

ভারতের তেলবাহী জাহাজ ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার সময় তেল লোড করছিল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার সময় একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার সেখানে তেল তুলছিল। তবে হামলার পরেও জাহাজটি নিরাপদে ভারতগামী যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘জ্যাগ লাডকি’ শনিবার ফুজাইরাহ বন্দরের তেল টার্মিনালে তেল লোড করছিল। ঠিক সেই সময় টার্মিনালটি হামলার শিকার হয়। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে রবিবার সকালে জাহাজটি নিরাপদে ভারতমুখী যাত্রা শুরু করেছে।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে থাকা সব ভারতীয় নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন।

মুরবান ক্রুড বহন করছে জাহাজটি

জ্যাগ লাডকি বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার ৮০০ টন ‘মুরবান’ ধরনের অপরিশোধিত তেল বহন করছে। এই তেল সংযুক্ত আরব আমিরাতে উৎপাদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রুড তেলের ধরন।

জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্মিত এই ট্যাঙ্কারটি মুম্বাইভিত্তিক গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন এবং তাদের পরিচালনাধীন।

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফুজাইরাহর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এলাকায় জাহাজটি তেল তুলছিল। সেই সময় ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে হামলা হয়। এরপর রবিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাহাজটি নিরাপদে ফুজাইরাহ বন্দর ত্যাগ করে এবং ভারতগামী যাত্রা শুরু করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জাহাজ চলাচলে প্রভাব

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই অঞ্চল থেকেই আসে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফুজাইরাহ বন্দরটি ওমান উপসাগরে অবস্থিত। এখান থেকে ভারতে আসা জাহাজগুলোকে বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয় না। তবুও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে যে এই অঞ্চলের অন্যান্য সমুদ্রপথেও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

সংঘাতের পর চতুর্থ ভারতীয় জাহাজ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর আশপাশের অঞ্চল থেকে এটি চতুর্থ ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যা নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাগ লাডকি ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে ফুজাইরাহ বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

এর আগে শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার—শিবালিক ও নন্দা দেবী—শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে গুজরাটের বিভিন্ন বন্দরের পথে রওনা দেয়।

এছাড়া সপ্তাহের শুরুতে গ্রেট ইস্টার্ন শিপিংয়ের আরেকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার ‘জ্যাগ প্রকাশ’ ওমানের সোহর বন্দর থেকে পেট্রোল নিয়ে তানজানিয়ার টাঙ্গা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সোহর বন্দরটিও ফুজাইরাহর মতো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা

ভারতের তেলবাহী জাহাজ ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার সময় তেল লোড করছিল

০৭:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার সময় একটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কার সেখানে তেল তুলছিল। তবে হামলার পরেও জাহাজটি নিরাপদে ভারতগামী যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ‘জ্যাগ লাডকি’ শনিবার ফুজাইরাহ বন্দরের তেল টার্মিনালে তেল লোড করছিল। ঠিক সেই সময় টার্মিনালটি হামলার শিকার হয়। তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে রবিবার সকালে জাহাজটি নিরাপদে ভারতমুখী যাত্রা শুরু করেছে।

সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জাহাজটিতে থাকা সব ভারতীয় নাবিক সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন।

মুরবান ক্রুড বহন করছে জাহাজটি

জ্যাগ লাডকি বর্তমানে প্রায় ৮০ হাজার ৮০০ টন ‘মুরবান’ ধরনের অপরিশোধিত তেল বহন করছে। এই তেল সংযুক্ত আরব আমিরাতে উৎপাদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রুড তেলের ধরন।

জাহাজ সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে নির্মিত এই ট্যাঙ্কারটি মুম্বাইভিত্তিক গ্রেট ইস্টার্ন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন এবং তাদের পরিচালনাধীন।

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ফুজাইরাহর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এলাকায় জাহাজটি তেল তুলছিল। সেই সময় ফুজাইরাহ তেল টার্মিনালে হামলা হয়। এরপর রবিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে দশটার দিকে জাহাজটি নিরাপদে ফুজাইরাহ বন্দর ত্যাগ করে এবং ভারতগামী যাত্রা শুরু করে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জাহাজ চলাচলে প্রভাব

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই অঞ্চল থেকেই আসে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফুজাইরাহ বন্দরটি ওমান উপসাগরে অবস্থিত। এখান থেকে ভারতে আসা জাহাজগুলোকে বিপজ্জনক হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে হয় না। তবুও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা প্রমাণ করছে যে এই অঞ্চলের অন্যান্য সমুদ্রপথেও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

সংঘাতের পর চতুর্থ ভারতীয় জাহাজ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালীর আশপাশের অঞ্চল থেকে এটি চতুর্থ ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, যা নিরাপদে বেরিয়ে এসেছে।

জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, জ্যাগ লাডকি ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে ফুজাইরাহ বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

এর আগে শিপিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন দুটি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার—শিবালিক ও নন্দা দেবী—শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে গুজরাটের বিভিন্ন বন্দরের পথে রওনা দেয়।

এছাড়া সপ্তাহের শুরুতে গ্রেট ইস্টার্ন শিপিংয়ের আরেকটি জ্বালানি ট্যাঙ্কার ‘জ্যাগ প্রকাশ’ ওমানের সোহর বন্দর থেকে পেট্রোল নিয়ে তানজানিয়ার টাঙ্গা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সোহর বন্দরটিও ফুজাইরাহর মতো হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।