মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মিত্র দেশ এতে সাড়া দেয়নি। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমা মিত্রদের কৃতজ্ঞতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
মিত্রদের অনীহা নিয়ে উত্তেজনা
হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেখানে ট্যাংকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে ইউরোপসহ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ মিত্র এই প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া দেয়নি।
এই অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা সহযোগিতায় অনীহা যুক্তরাষ্ট্র-মিত্র সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মিত্রদের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করে এসেছে, অথচ এখন প্রয়োজনের সময়ে তারা পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তার ভাষায়, এটি কৃতজ্ঞতার অভাবেরই প্রমাণ।
এই মন্তব্যে পশ্চিমা জোটের ভেতরে চাপা অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। সেখানে উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি হলেও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সামনে কী হতে পারে
মিত্রদের এই অবস্থান ভবিষ্যতে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















