গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন নতুন উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসেছে হামাস। তবে চলমান ইরান সংঘাত ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে এই উদ্যোগ এখন বড় ধরনের চাপে পড়েছে।
প্রথম বৈঠক, তবে অগ্রগতি অনিশ্চিত
গত সপ্তাহের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোপন স্থানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূলত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনাকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে আলোচনাকে প্রাথমিক পর্যায়ের বলা হয়েছে এবং এখনো কোনো বড় অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

‘শান্তি বোর্ড’ নিয়ে বিতর্ক
এই আন্তর্জাতিক বোর্ডটি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে গঠিত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ শান্তি পরিকল্পনার অংশ। এতে বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিনিধিরা যুক্ত থাকলেও ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ঘিরে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ায় বোর্ডের কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে।
রাফাহ সীমান্ত খোলার দাবি
বৈঠকে হামাস গাজার রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানায়। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মানবিক সহায়তা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
হামাস সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি দ্রুত মানবিক সহায়তা পুনরায় চালু না করা হয় এবং সীমান্ত খোলা না হয়, তাহলে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যেতে পারে।

যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা
গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ হামলায় শিশু সহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আর সামগ্রিক নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে।
পুনর্গঠন তহবিল ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
বোর্ডটি তাদের প্রথম বৈঠকে গাজা পুনর্গঠনের জন্য সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিলের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও তুলে ধরে।
তবে বড় পশ্চিমা দেশগুলোর অনীহা এবং চলমান সংঘাতের কারণে এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















