ইউরোপজুড়ে জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। ইউক্রেনকে পাশ কাটিয়ে নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণে চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া। রাশিয়ার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং ইউক্রেনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে, যা ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
পাইপলাইন বন্ধ নিয়ে দ্বন্দ্বের সূচনা
সোভিয়েত আমলের দ্রুজবা পাইপলাইন গত জানুয়ারির শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যায়। ইউক্রেন দাবি করে, রুশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করতে হয়েছে। তবে রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে। অন্যদিকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া বলছে, এটি পরিকল্পিতভাবে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানির অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে হাঙ্গেরি।

ইউরোপীয় চাপ ও হাঙ্গেরির প্রতিক্রিয়া
হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজিয়ার্তো অভিযোগ করেন, তাদের ওপর প্রকাশ্যে কঠোর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার দাবি, ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়ার জন্য জোর করা হচ্ছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের চাপ গ্রহণযোগ্য নয়। বরং এর জবাব হিসেবে স্লোভাকিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি পাইপলাইন নির্মাণে চুক্তি করা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
হাঙ্গেরির অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি জটিল করছে। পাইপলাইন মেরামতে এক মাস সময় লাগবে বলে যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা হাঙ্গেরির নির্বাচনের পরের সময়ের সঙ্গে মিলে যায় বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
হাঙ্গেরির প্রতিনিধিরা কিয়েভে আলোচনা করতে গেলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
সহায়তা ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কড়াকড়ি অবস্থান
হাঙ্গেরি স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউক্রেন যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখে, তাহলে তারা কোনো সামরিক ঋণ, আর্থিক সহায়তা কিংবা নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ সমর্থন করবে না। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও পাইপলাইন পুনরায় চালুর বিষয়ে অনাগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এটি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

ইউরোপের জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পাইপলাইন চুক্তি শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, বরং ইউরোপের ভেতরে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করতে পারে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















