ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় বলেন, কঠিন এই সময়েও পাকিস্তানের সংহতি ইরানের জন্য শক্ত সমর্থনের প্রতীক।
পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে উর্দু ভাষায় এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং এ লড়াইয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে দেশটি।
আরাগচি বলেন, আধ্যাত্মিক ও গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে ইরান দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অটল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের জনগণ ও সরকারের জন্য বড় সাহস যোগাচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সংহতি ইরানের প্রতি শক্ত সমর্থনের প্রতিফলন।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। পাল্টা জবাবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে জানা যায়।
এ পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায় এবং জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দেয়।
আলোচনার উদ্যোগে পাকিস্তান
এদিকে সংঘাত কমাতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পক্ষ থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে একই সঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করেছে যে আঞ্চলিক বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন বিতর্ক
যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই জলপথ নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথা বলা হলেও কয়েকটি দেশ সেখানে নৌবাহিনী পাঠাতে আগ্রহ দেখায়নি।

তেহরানে বিস্ফোরণ, উদ্বেগ বাড়ছে
এদিকে সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।
ঠিক কী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে নতুন এই ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















