০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান? মেক্সিকোর কাছে হারলেও কমেনি উন্মাদনা, তীব্র গরমেও রাস্তায় নেমে কোরিয়া দলের পাশে হাজারো সমর্থক স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা, ঘরের কাজে সমালোচনা—জাপানি ফুটবল সমর্থকদের ঘিরে নতুন বিতর্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য মূল্য: পূর্ব এশিয়ার মানুষ কি প্রযুক্তি বিপ্লবের স্বাস্থ্যখরচ বহন করছে? নিয়ন্ত্রণের সীমা: ইরান যুদ্ধ কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সতর্কবার্তা নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ‘চাঁদা’ বিতর্ক: মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুঁইছুঁই সর্বকালের রেকর্ড কুমিল্লায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত সুপারভাইজার, চালকরা পালিয়েছেন নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান

দ্বিতীয় সন্তান নিতে ভয় কেন বাড়ছে? সময় সংকট, কাজের চাপ আর পরিবারে বদলে যাওয়া বাস্তবতা

একটি সন্তান জন্মের পরই বদলে যায় জীবনের গতি, আর দ্বিতীয় সন্তানের কথা ভাবলেই অনেক দম্পতির মনে ভিড় করে নানা সংশয়। শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং সময়ের ঘাটতি, মানসিক ক্লান্তি এবং কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

How a Second Baby Affects a Marriage Differently Than the First

সময়ের চাপই বড় বাধা

সমীক্ষাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেখিয়ে আসছে, সন্তান নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে অর্থনৈতিক খরচকে দেখা হয়। বাসস্থান, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অনেক দম্পতিকে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। কিন্তু বাস্তবতা আরও গভীর। একটি সন্তান জন্মের পর বাবা-মায়ের সামনে তৈরি হয় এক ধরনের টানটান ভারসাম্যের খেলা, যেখানে কাজ, পরিবার এবং নিজের জন্য সময়—সবকিছু একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন দুই সন্তানের বাবা বলছিলেন, একটি সন্তান থাকলে বাবা-মা পালা করে দায়িত্ব নিতে পারেন, কিন্তু দুই সন্তানের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ আর থাকে না। তখন প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে ওঠে চাপের।

Couple Debating A Second Child Faces One Huge Question: Does Having Two  Kids Mean Neither Parent Ever Truly Gets A Break Again? - AOL

দ্রুতগতির জীবনে সময়ের সংকট

বর্তমান নগরজীবনে সময় যেন সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ। জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ অপরিহার্য হলেও সেটিই কেড়ে নিচ্ছে শারীরিক ও মানসিক শক্তির বড় অংশ। অন্যদিকে সন্তান লালন-পালনও সমান সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। সন্তান অসুস্থ হলে বা হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কর্মজীবী বাবা-মাকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিতে হয়।

একই সঙ্গে কাজ ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান পালনের চাপ এবং কাজের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারাই অনেক দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান না নেওয়ার অন্যতম কারণ।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজন

কেবল অর্থ দিয়ে সবকিছুর মূল্য নির্ধারণ করা যায় না—এই উপলব্ধিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সন্তান লালন-পালন শুধুমাত্র দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া, যেখানে ভালোবাসা, ধৈর্য এবং মানসিক বিকাশের জায়গা তৈরি হয়।

অনেকেই স্বীকার করছেন, সময়ের বিনিময়ে অর্থ হারানোর হিসাবের বাইরে গিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া জীবনের গভীরতর অর্থ এনে দেয়। তবে এই পরিবর্তন সবার জন্য সহজ নয়, কারণ কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা অনেক সময় তা অনুমতি দেয় না।

How a second child affects your entire life, according to research -

কর্মজীবন ও পরিবার—দুইয়ের ভারসাম্য

কর্মজীবনকে দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক মা-বাবা এখন সাময়িকভাবে ক্যারিয়ারের গতি কমিয়ে সন্তানদের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে সহজ নয়, তবুও কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে তা সম্ভব হতে পারে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বিরতি বা ফাঁককে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে, তা অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।

নমনীয় কাজের পরিবেশের গুরুত্ব

অনেক অভিভাবকই মনে করেন, নমনীয় কাজের ব্যবস্থা থাকলে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হয়। তবে এই ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়োগদাতার হাতে থাকায় কর্মীদের জন্য সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নির্দিষ্ট সময়সূচি, সীমিত অতিরিক্ত কাজ এবং পরিবারের জন্য সময় নিশ্চিত করার মতো উদ্যোগগুলো কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

Second child divorce syndrome: How to stay together | body+soul

সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

শুধু নীতিমালা বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তন। পরিবার, ভালোবাসা এবং যত্নের মূল্যকে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ করে পুরুষদের পারিবারিক দায়িত্বে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক প্রত্যাশা তাদের এই ভূমিকা থেকে দূরে রাখে।

শেষ পর্যন্ত, কাজ এবং পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—সময়, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই পারে এই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ দেখাতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

দ্বিতীয় সন্তান নিতে ভয় কেন বাড়ছে? সময় সংকট, কাজের চাপ আর পরিবারে বদলে যাওয়া বাস্তবতা

০১:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

একটি সন্তান জন্মের পরই বদলে যায় জীবনের গতি, আর দ্বিতীয় সন্তানের কথা ভাবলেই অনেক দম্পতির মনে ভিড় করে নানা সংশয়। শুধু অর্থনৈতিক চাপ নয়, বরং সময়ের ঘাটতি, মানসিক ক্লান্তি এবং কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

How a Second Baby Affects a Marriage Differently Than the First

সময়ের চাপই বড় বাধা

সমীক্ষাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেখিয়ে আসছে, সন্তান নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে অর্থনৈতিক খরচকে দেখা হয়। বাসস্থান, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় অনেক দম্পতিকে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে বাধ্য করছে। কিন্তু বাস্তবতা আরও গভীর। একটি সন্তান জন্মের পর বাবা-মায়ের সামনে তৈরি হয় এক ধরনের টানটান ভারসাম্যের খেলা, যেখানে কাজ, পরিবার এবং নিজের জন্য সময়—সবকিছু একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন দুই সন্তানের বাবা বলছিলেন, একটি সন্তান থাকলে বাবা-মা পালা করে দায়িত্ব নিতে পারেন, কিন্তু দুই সন্তানের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ আর থাকে না। তখন প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে ওঠে চাপের।

Couple Debating A Second Child Faces One Huge Question: Does Having Two  Kids Mean Neither Parent Ever Truly Gets A Break Again? - AOL

দ্রুতগতির জীবনে সময়ের সংকট

বর্তমান নগরজীবনে সময় যেন সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য সম্পদ। জীবিকা অর্জনের জন্য কাজ অপরিহার্য হলেও সেটিই কেড়ে নিচ্ছে শারীরিক ও মানসিক শক্তির বড় অংশ। অন্যদিকে সন্তান লালন-পালনও সমান সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। সন্তান অসুস্থ হলে বা হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কর্মজীবী বাবা-মাকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিতে হয়।

একই সঙ্গে কাজ ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক চাপে ভুগছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান পালনের চাপ এবং কাজের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারাই অনেক দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান না নেওয়ার অন্যতম কারণ।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজন

কেবল অর্থ দিয়ে সবকিছুর মূল্য নির্ধারণ করা যায় না—এই উপলব্ধিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সন্তান লালন-পালন শুধুমাত্র দায়িত্ব নয়, এটি একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া, যেখানে ভালোবাসা, ধৈর্য এবং মানসিক বিকাশের জায়গা তৈরি হয়।

অনেকেই স্বীকার করছেন, সময়ের বিনিময়ে অর্থ হারানোর হিসাবের বাইরে গিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া জীবনের গভীরতর অর্থ এনে দেয়। তবে এই পরিবর্তন সবার জন্য সহজ নয়, কারণ কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা অনেক সময় তা অনুমতি দেয় না।

How a second child affects your entire life, according to research -

কর্মজীবন ও পরিবার—দুইয়ের ভারসাম্য

কর্মজীবনকে দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক মা-বাবা এখন সাময়িকভাবে ক্যারিয়ারের গতি কমিয়ে সন্তানদের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে সহজ নয়, তবুও কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে তা সম্ভব হতে পারে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বিরতি বা ফাঁককে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে, তা অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।

নমনীয় কাজের পরিবেশের গুরুত্ব

অনেক অভিভাবকই মনে করেন, নমনীয় কাজের ব্যবস্থা থাকলে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ হয়। তবে এই ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়োগদাতার হাতে থাকায় কর্মীদের জন্য সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

নির্দিষ্ট সময়সূচি, সীমিত অতিরিক্ত কাজ এবং পরিবারের জন্য সময় নিশ্চিত করার মতো উদ্যোগগুলো কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

Second child divorce syndrome: How to stay together | body+soul

সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

শুধু নীতিমালা বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তন। পরিবার, ভালোবাসা এবং যত্নের মূল্যকে নতুন করে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ করে পুরুষদের পারিবারিক দায়িত্বে আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এখনও অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক প্রত্যাশা তাদের এই ভূমিকা থেকে দূরে রাখে।

শেষ পর্যন্ত, কাজ এবং পরিবারের টানাপোড়েনের মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—সময়, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই পারে এই সংকট থেকে বের হওয়ার পথ দেখাতে।