০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
আফ্রিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে বিনিয়োগের ঢেউ, সহায়তার যুগ পেরিয়ে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা ঈদহীন উপকূল: টেকনাফে শতাধিক জেলে নিখোঁজ, অর্ধলক্ষ পরিবারে বেঁচে থাকার লড়াই শিশুদের কনটেন্টে বড় সংকট, সুযোগ নিচ্ছে বিবিসি—বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক বিনোদনের মানচিত্র ব্রেক্সিট নীতিতে বড় মোড়: ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে ব্রিটেন, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন হিসাব চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুনে আতঙ্ক: অল্পের জন্য রক্ষা পেল ঢাকাগামী ট্রেন হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের নতুন হুমকি খনিজ পানি আসলে কী, বোতলের ভেতরের জলের গল্প জানলে চমকে যাবেন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাঝেই কূটনৈতিক তৎপরতা, পাকিস্তান–তুরস্কে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ইউক্রেন-ইউরোপ সম্পর্কে টানাপোড়েন, যুদ্ধের মাঝেই বাড়ছে কূটনৈতিক অস্বস্তি চেন্নাইয়ের সমুদ্রতটে অদৃশ্য বিপদ: মাইক্রোপ্লাস্টিক কম হলেও ঝুঁকি ভয়াবহ

ঈদের ভিড়ে রংপুরে টিকিট সংকট, কাউন্টারে নেই—কালোবাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়নায় রংপুরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। কাউন্টারে কোনো বাসের টিকিট মিলছে না, অথচ একই টিকিট বাইরে কালোবাজারে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা গুনে বাধ্য হয়ে টিকিট কিনছেন অনেকেই।

কাউন্টারে টিকিট নেই, বাইরে চলছে দৌরাত্ম্য

রংপুর-ঢাকা রুটে আগামী কয়েক দিনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কাউন্টারের বাইরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে টিকিট, তবে বাড়তি দামে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৮৬০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রংপুরে বাসের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

শুধু সাধারণ বাস নয়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসেও ভাড়া বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এক হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়, আর দেড় হাজার টাকার টিকিটের দাম পৌঁছেছে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। নতুন বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

আগাম ঘোষণা না থাকায় বিপাকে যাত্রীরা

যাত্রীদের অভিযোগ, অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা ছিল না। অনেক কাউন্টারে সরাসরি টিকিট বিক্রিই করা হয়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টারে ঘুরেও টিকিট না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন কালোবাজারের দ্বারস্থ হতে।

ঢাকায় কর্মরত অনেকেই জানিয়েছেন, সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে—এই ভয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই টিকিট কিনছেন তারা। কেউ কেউ আবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরেও টিকিট না পেয়ে শেষ মুহূর্তে দ্বিগুণ দামে টিকিট সংগ্রহ করছেন।

দুই দিন ঘুরেও মিলছে না টিকিট

অনেক যাত্রী দুই দিন ধরে কাউন্টারে ঘুরছেন, তবুও টিকিট পাচ্ছেন না। আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতে কিছুই থাকছে না। এতে নারী শ্রমিক থেকে শুরু করে চাকরিজীবী—সবাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঈদের ফিরতি যাত্রায় টিকিট সংকট, কালোবাজারে দ্বিগুণ দাম

কেউ কেউ বলছেন, নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার আগে হঠাৎ করেই কাউন্টারের বাইরে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানো

কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের কারণে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়িয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে একজন কালোবাজারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চলছে।

ফিরতি ঈদযাত্রা: আগের দামে টিকিট নেই, দ্বিগুণ দিলে আছে

প্রতিদিন শতাধিক বাস, তবুও সংকট

রংপুর থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। ঈদের সময় যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ফলে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে এসে এখন কর্মস্থলে ফেরার পথে চরম অনিশ্চয়তা আর বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আফ্রিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিচ্ছে বিনিয়োগের ঢেউ, সহায়তার যুগ পেরিয়ে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা

ঈদের ভিড়ে রংপুরে টিকিট সংকট, কাউন্টারে নেই—কালোবাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি

০৩:৫০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাড়নায় রংপুরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। কাউন্টারে কোনো বাসের টিকিট মিলছে না, অথচ একই টিকিট বাইরে কালোবাজারে দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা গুনে বাধ্য হয়ে টিকিট কিনছেন অনেকেই।

কাউন্টারে টিকিট নেই, বাইরে চলছে দৌরাত্ম্য

রংপুর-ঢাকা রুটে আগামী কয়েক দিনের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে কাউন্টার থেকে জানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কাউন্টারের বাইরে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে টিকিট, তবে বাড়তি দামে। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া ৮৬০ টাকা হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

রংপুরে বাসের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

শুধু সাধারণ বাস নয়, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসেও ভাড়া বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। এক হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ টাকায়, আর দেড় হাজার টাকার টিকিটের দাম পৌঁছেছে দুই হাজার ৪০০ টাকায়। নতুন বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

আগাম ঘোষণা না থাকায় বিপাকে যাত্রীরা

যাত্রীদের অভিযোগ, অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা ছিল না। অনেক কাউন্টারে সরাসরি টিকিট বিক্রিই করা হয়নি। ফলে সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টারে ঘুরেও টিকিট না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন কালোবাজারের দ্বারস্থ হতে।

ঢাকায় কর্মরত অনেকেই জানিয়েছেন, সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে—এই ভয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়েই টিকিট কিনছেন তারা। কেউ কেউ আবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘুরেও টিকিট না পেয়ে শেষ মুহূর্তে দ্বিগুণ দামে টিকিট সংগ্রহ করছেন।

দুই দিন ঘুরেও মিলছে না টিকিট

অনেক যাত্রী দুই দিন ধরে কাউন্টারে ঘুরছেন, তবুও টিকিট পাচ্ছেন না। আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতে কিছুই থাকছে না। এতে নারী শ্রমিক থেকে শুরু করে চাকরিজীবী—সবাই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঈদের ফিরতি যাত্রায় টিকিট সংকট, কালোবাজারে দ্বিগুণ দাম

কেউ কেউ বলছেন, নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার আগে হঠাৎ করেই কাউন্টারের বাইরে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

পরিবহন কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানো

কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের কারণে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ ভাড়া বাড়িয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে কালোবাজারে টিকিট বিক্রির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে একজন কালোবাজারিকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের হয়রানি ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি চলছে।

ফিরতি ঈদযাত্রা: আগের দামে টিকিট নেই, দ্বিগুণ দিলে আছে

প্রতিদিন শতাধিক বাস, তবুও সংকট

রংপুর থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় দুই শতাধিক বাস চলাচল করে। ঈদের সময় যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপ তৈরি হলেও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এই সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

ফলে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে এসে এখন কর্মস্থলে ফেরার পথে চরম অনিশ্চয়তা আর বাড়তি খরচের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা।