হলিউডের ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন মাইকেল বি. জর্ডান। ভ্যাম্পায়ার ঘরানার ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র ‘সিনার্স’-এ যমজ দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার মনোনীত হয়েই এই সম্মান অর্জন করেন।
পুরস্কার গ্রহণের সময় জর্ডান মঞ্চে উঠে পরিচালক রায়ান কুগলারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
অভিনয়ের পেছনের অনুপ্রেরণা
স্বীকৃতি বক্তব্যে জর্ডান তার পূর্বসূরিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান। বিশেষভাবে স্মরণ করেন হলিউডে পথপ্রদর্শক কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের—সিডনি পোয়েটিয়ার, উইল স্মিথ, ডেনজেল ওয়াশিংটন এবং জেমি ফক্সকে। পাশাপাশি নিজের পূর্বপুরুষদের অবদানও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, ভবিষ্যতেও নিজেকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং সেরা সংস্করণে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই কাজ করে যাবেন। বক্তব্যের শেষদিকে ‘সিনার্স’ চলচ্চিত্রটি একাধিকবার দেখে সমর্থন দেওয়া দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
‘সিনার্স’-এ দ্বৈত চরিত্রের চ্যালেঞ্জ
৩৯ বছর বয়সী জর্ডান চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন যমজ দুই ভাই এলিজাহ “স্মোক” ও এলিয়াস “স্ট্যাক” মুরের ভূমিকায়। গল্পটি গ্রেট ডিপ্রেশন সময়ের মিসিসিপিকে কেন্দ্র করে, যেখানে দুই যুদ্ধফেরত ভাই চুরি করা অর্থ দিয়ে একটি জুক জয়েন্ট খোলার পরিকল্পনা করে।

সমালোচকদের মতে, এই চলচ্চিত্রে দুই চরিত্রকে আলাদা অথচ সমন্বিতভাবে তুলে ধরা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দক্ষিণী উচ্চারণে সাবলীল সংলাপ এবং ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা জর্ডানের অভিনয়কে আরও শক্তিশালী করেছে।
ক্যারিয়ারের উত্থান
ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া জর্ডান বড় হয়েছেন নিউ জার্সিতে। পরিচালক রায়ান কুগলারের চলচ্চিত্র ‘ফ্রুটভেল স্টেশন’-এর মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। পরে ‘রকি’ সিরিজের স্পিন-অফ ‘ক্রিড’ চলচ্চিত্রে ডনি ক্রিড চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা বাড়ান। সেই সিরিজের তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘ক্রিড থ্রি’ তিনি নিজেই পরিচালনা করেছেন।
এছাড়া মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ চলচ্চিত্রে কিলমঙ্গার চরিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।
অন্য মনোনীতরা
এ বছর সেরা অভিনেতা বিভাগে জর্ডানের পাশাপাশি মনোনীত ছিলেন টিমোথি শ্যালামে (‘মার্টি সুপ্রিম’), লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’), ইথান হক (‘ব্লু মুন’) এবং ব্রাজিলের অভিনেতা ওয়াগনার মুরা (‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’)।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















