সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী বাসন্তী পূজা আজ ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। সারা দেশের মতো সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আয়োজন ও প্রস্তুতি।
বাসন্তী পূজার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চন্দ্র বংশীয় রাজা সুরথ প্রথম চৈত্র নবরাত্রির সঙ্গে মিল রেখে শুক্লপক্ষে দেবী দুর্গার বাসন্তী রূপের পূজা শুরু করেন। সেই থেকেই বাসন্তী পূজার সূচনা, যা আদিপূজার অংশ হিসেবে আজও পালিত হয়ে আসছে।
জকিগঞ্জে পূজার আয়োজন
জকিগঞ্জ উপজেলার কেরাইয়া গ্রামের সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে প্রতি বছরের মতো এবারও বাসন্তী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। পূজা অর্চনার পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ২৭ মার্চ শুক্রবার নবমী তিথিতে যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সাজাপুর সার্বজনীন দুর্গাবাড়ি মন্দিরেও পূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। অন্যদিকে মির্জারচক গ্রামের দক্ষিণ হাওরে অনুকূল রামের জ্যোতি অ্যান্ড জ্যোনাকী এগ্রো ফার্মে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসন্তী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

পূজার সময়সূচি
পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৫ মার্চ সপ্তমী, ২৬ মার্চ অষ্টমী, ২৭ মার্চ নবমী এবং ২৮ মার্চ বিজয়া দশমী পালিত হবে। বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার সমাপ্তি ঘটবে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
গত ২৩ মার্চ সোমবার রাতে কেরাইয়া সার্বজনীন কালী মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদী থেকে আসা কারিগররা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, শুধু কিছু রঙের কাজ বাকি রয়েছে, যা দ্রুত সম্পন্ন হবে।
আয়োজকদের বক্তব্য
আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বিশ্বাস জানিয়েছেন, আলোকসজ্জাসহ সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পূজা উদযাপনের অপেক্ষা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















