ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এর সরাসরি ধাক্কা খুব দ্রুত ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন শেল-এর প্রধান নির্বাহী ওয়ায়েল সাওয়ান। তার মতে, আগামী মাস থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতি, থমকে যাচ্ছে সরবরাহ
সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল প্রায় থমকে গেছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়, ফলে এর ওপর চাপ পুরো বাজারকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে।

জেট জ্বালানি থেকে ডিজেল, তারপর পেট্রোল
বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে বিমান জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। শিগগিরই ডিজেল সংকট দেখা দিতে পারে এবং গ্রীষ্মের শুরুতেই পেট্রোল সরবরাহেও চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলো আগে এই সংকটে পড়লেও ধীরে ধীরে এর প্রভাব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব, বাংলাদেশের পদক্ষেপ
এই সংকটের প্রথম ধাক্কা লেগেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কাজের সময় কমানো ও রেশনিং চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিমান জ্বালানির দাম প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের মজুত তেল বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে।

ইউরোপের বিকল্প উৎস, তবু চাপ বাড়ছে
যদিও ইউরোপ সরাসরি উপসাগরীয় তেলের ওপর এশিয়ার মতো নির্ভরশীল নয়, তবুও বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। উত্তর আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বিকল্প জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে, কিন্তু এশিয়ার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম দ্রুত বাড়ছে।
রাশিয়ার তেল নিয়ে নতুন আলোচনা
সংকট ঘনীভূত হওয়ায় ইউরোপে আবারও রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগে ইউরোপের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল আসত রাশিয়া থেকে, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা অনেকটাই কমানো হয়েছে। যদিও ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানিতে ফিরে যাওয়া কৌশলগত ভুল হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















