দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এখনও কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে। বুধবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাতভর উদ্ধার অভিযান
উদ্ধারকারীরা রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রেহেনা আক্তার ও মর্জিনা বেগম নামে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

আহতদের চিকিৎসা চলছে
দুর্ঘটনার পর অন্তত তিনজন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হন। তাদের মধ্যে দুজন দৌলতদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এবং একজন বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
জানা গেছে, বিকেল আড়াইটার দিকে বাসটি যাত্রা শুরু করে। পথে বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠায় বাসটিতে মোট প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছে ফেরির অপেক্ষায় ছিল।
এ সময় একটি ইউটিলিটি ফেরি পন্টুনে ধাক্কা দিলে ভারসাম্য হারিয়ে পন্টুনে থাকা বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় কিছু যাত্রী বের হতে পারলেও অনেকেই বাসের ভেতরে আটকা পড়ে যান।

বাস উদ্ধারের চেষ্টা চলছে
দমকল ও নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট উদ্ধার দল বাসটির অবস্থান শনাক্ত করেছে। উদ্ধার জাহাজের সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটি তোলার কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নিখোঁজদের খোঁজে উদ্বেগ
নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা ঘাট এলাকায় ভিড় করছেন। অনেকেই প্রিয়জনের খোঁজে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















