০৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ‘না হারাই জয়’—অসম যুদ্ধের ভেতরের কঠিন বাস্তবতা না হারলেও কেন হার—ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ভিন্ন বাস্তবতার বিশ্লেষণ রহস্যে ঢাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা: কৃত্রিম ছবি, ভয়েসওভারে বার্তা, বাড়ছে জল্পনা ট্রাম্পের কটূভাষা রাজনীতি: ভদ্রতার সংকট না নতুন কৌশল? ইরান যুদ্ধ: কূটনৈতিক ভুলে জটিল সংঘাত, বাড়ছে ঝুঁকি ও বৈশ্বিক চাপ শিশুর ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ে নতুন কৌশল, ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ ইরানের কূটনীতির নতুন মুখ: আপসহীন বার্তায় সামনে আব্বাস আরাঘচি সেবার দাম বাড়ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি কমছে না—চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রাম্পের পিছু হটা, তেহরানকে ঘিরে নতুন কূটনীতি: যুদ্ধবিরতির আশা না নতুন কৌশল? তেহরানে ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা জবাবে ইরান—যুদ্ধের মাঝেই আলোচনার ইঙ্গিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক টানাপোড়েন, স্থগিত হতে পারে শীর্ষ বৈঠক

ইরানে চলমান যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠক স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে চীনের কাছে উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর তাতেই দুই দেশের সম্পর্কের ভঙ্গুর বাস্তবতা সামনে এসেছে।

শীর্ষ বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

মার্চের শেষদিকে বেইজিং সফরের কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সফর পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কার্যত অবরোধ বজায় রাখে এবং চীন যদি এতে ভূমিকা না রাখে, তাহলে বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে।

তবে প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

চীনের অনাগ্রহের কারণ

চীনের অবস্থান স্পষ্ট—তারা এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দৃষ্টিতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, তাদের নিজস্ব সমস্যা নয়।

চীনের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ফলে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো মানে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার মতো বার্তা দেবে, যা বেইজিং মোটেও চায় না।

চীনা বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধজাহাজ পাঠানো মানে কার্যত সংঘাতে অংশ নেওয়া, যা চীন এড়াতে বদ্ধপরিকর।

অর্থনীতি ও তেলের চাপে চীন

যদিও চীন সরাসরি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে চায়, তবু হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা তাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। দেশটির প্রায় চল্লিশ শতাংশ তেল আমদানি এই পথ দিয়ে আসে। যুদ্ধ শুরুর পর অনেক চীনা জাহাজ ঝুঁকি না নিয়ে আটকে পড়েছে উপসাগরে।

এ অবস্থায় প্রণালী খুলে দেওয়া চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং নীরবে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে পথটি আবার চালু হয়।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের চেষ্টা

চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চায় না। তাই তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে না গিয়ে কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে পারে।

সম্ভাবনা রয়েছে, চীন পর্দার আড়ালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—তিন পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবে। এতে একদিকে তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে আসন্ন বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

কৌশলগত লাভের হিসাব

শীর্ষ বৈঠক বিলম্বিত হওয়াও চীনের জন্য পুরোপুরি ক্ষতির নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়বে, আর সেটি বেইজিংয়ের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে বৈঠকের প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রেরই বেশি, কারণ ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমঝোতার বার্তা দিতে চান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে ‘না হারাই জয়’—অসম যুদ্ধের ভেতরের কঠিন বাস্তবতা

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক টানাপোড়েন, স্থগিত হতে পারে শীর্ষ বৈঠক

০৫:২০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

ইরানে চলমান যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠক স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে চীনের কাছে উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর তাতেই দুই দেশের সম্পর্কের ভঙ্গুর বাস্তবতা সামনে এসেছে।

শীর্ষ বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

মার্চের শেষদিকে বেইজিং সফরের কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই সফর পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কার্যত অবরোধ বজায় রাখে এবং চীন যদি এতে ভূমিকা না রাখে, তাহলে বৈঠক বিলম্বিত হতে পারে।

তবে প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

চীনের অনাগ্রহের কারণ

চীনের অবস্থান স্পষ্ট—তারা এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দৃষ্টিতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, তাদের নিজস্ব সমস্যা নয়।

চীনের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ফলে সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো মানে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করা। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার মতো বার্তা দেবে, যা বেইজিং মোটেও চায় না।

চীনা বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুদ্ধজাহাজ পাঠানো মানে কার্যত সংঘাতে অংশ নেওয়া, যা চীন এড়াতে বদ্ধপরিকর।

অর্থনীতি ও তেলের চাপে চীন

যদিও চীন সরাসরি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে চায়, তবু হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা তাদের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। দেশটির প্রায় চল্লিশ শতাংশ তেল আমদানি এই পথ দিয়ে আসে। যুদ্ধ শুরুর পর অনেক চীনা জাহাজ ঝুঁকি না নিয়ে আটকে পড়েছে উপসাগরে।

এ অবস্থায় প্রণালী খুলে দেওয়া চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং নীরবে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যাতে পথটি আবার চালু হয়।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের চেষ্টা

চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চায় না। তাই তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে না গিয়ে কূটনৈতিক পথ বেছে নিতে পারে।

সম্ভাবনা রয়েছে, চীন পর্দার আড়ালে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—তিন পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দেবে। এতে একদিকে তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে আসন্ন বৈঠকের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

কৌশলগত লাভের হিসাব

শীর্ষ বৈঠক বিলম্বিত হওয়াও চীনের জন্য পুরোপুরি ক্ষতির নয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়বে, আর সেটি বেইজিংয়ের দর কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে বৈঠকের প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রেরই বেশি, কারণ ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমঝোতার বার্তা দিতে চান।