নিউইয়র্কে গুতেরেস-খলিলুর বৈঠক
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের প্রতি সংস্থার অবিচল সমর্থন ও সংহতি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে গুতেরেস নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের “মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতা” অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশে জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনের বিবৃতিতে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। দুই নেতা সমসাময়িক বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বৈঠকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন, বৈশ্বিক তেল সংকট উন্নয়নশীল ও ক্ষুদ্র দেশগুলোর ওপর অসামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাত হানছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে, অথচ যুদ্ধ শুরু করার কোনো দায় তাদের নেই। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর নতুন সরকার দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে। তারেক রহমান ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা বোঝার বিষয়টি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব প্রার্থিতা
এই বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। জুন ২০২৬-এ নিউইয়র্কে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টরন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মো. শাহ আলম খোখন বলেছেন, বাংলাদেশ যদি এই পদে নির্বাচিত হয় তাহলে বৈশ্বিক শান্তি, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখা হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ৭,৫০০-এরও বেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রেখেছে। এই দীর্ঘ শান্তিরক্ষার ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাধারণ পরিষদ সভাপতিত্বের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















