প্রবাসীদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল লাখো পরিবার ঝুঁকিতে
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রবাসী আয় এখন গুরুতর ঝুঁকিতে। প্রতি বছর বাংলাদেশে যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে তার প্রায় ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত মিলিয়ে গত অর্থবছরে বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকদের ৮৬ শতাংশের গন্তব্য ছিল এই পাঁচটি দেশ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার ফলে নতুন শ্রমিকরা আটকে গেছেন এবং ইতোমধ্যে সেখানে থাকা অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবি সতর্ক করে বলেছে যে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬-২৭ সালে উন্নয়নশীল এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি ৩.২ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। বাংলাদেশ এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। উপসাগরীয় অর্থনীতি সংকুচিত হলে সেখানকার নিয়োগকর্তারা খরচ কমাতে শ্রমিক ছাঁটাই করতে পারেন। এতে রেমিট্যান্স কমলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সরাসরি চাপ পড়বে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রধানত নির্মাণ, পরিষেবা ও গার্হস্থ্য কাজে নিয়োজিত। এই খাতগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর সরকারি বিনিয়োগ ও ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল। ইরানি হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক মন্দা একযোগে বাড়ছে। অভিবাসী শ্রমিকরা সবচেয়ে অরক্ষিত শ্রেণি, যারা ইতোমধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে হতাহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীরা ১৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। এই অর্থ লাখো পরিবারের জীবনধারণ ও শিক্ষার ব্যয় মেটায়। রেমিট্যান্সের ঘাটতি শুধু মুদ্রাবাজারে নয়, গ্রামীণ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও সরাসরি আঘাত হানবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাংলাদেশকে এখনই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার খোঁজার উদ্যোগ নিতে হবে এবং বিদ্যমান প্রবাসীদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক সক্রিয়তা বাড়াতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















