নিউজিল্যান্ডে এক বিরল তোতা প্রজাতির বাঁচার লড়াইয়ে আশার নতুন গল্প লিখছে প্রকৃতি। বহুদিন ধরে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা কাকাপো তোতা এবার অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত হারে প্রজনন করছে, আর এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে এক বিশেষ ফল—রিমু গাছের পুষ্টিকর ফল।
রিমু ফলের প্রাচুর্যে প্রজননের বিস্ময়
গবেষকদের মতে, বহু দশকের মধ্যে এবার রিমু গাছে ফলন হয়েছে ব্যতিক্রমীভাবে বেশি। উজ্জ্বল লাল রঙের এই ফল ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-তে সমৃদ্ধ, যা কাকাপোর বাচ্চাদের বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পুষ্টি প্রাপ্তির কারণে পাখিগুলোর প্রজনন হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
চলতি বছরেই দক্ষিণ দ্বীপের আশপাশের কয়েকটি সুরক্ষিত দ্বীপে ইতোমধ্যে ৫২টি বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। যদিও সব বাচ্চা বেঁচে থাকবে না, তবুও এই সংখ্যা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
বিলুপ্তি থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসা
বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কাকাপোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৬-এ। অথচ তিন দশক আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫১। এই ধীর কিন্তু স্থির বৃদ্ধিই প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে দূরে সরিয়ে আনছে। গবেষকদের ধারণা, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে এই পাখি আরও নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

নিশাচর জীবনের রহস্য
কাকাপো একটি নিশাচর ও উড়তে অক্ষম তোতা। খুব কম মানুষই এই পাখিকে সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এদের রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে কিছু পাখিকে উত্তর দ্বীপের অভয়ারণ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমনকি হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাদের নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।
প্রযুক্তির নজরে প্রতিটি কাকাপো
প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক কাকাপোর শরীরে একটি বিশেষ ট্রান্সমিটার লাগানো থাকে, যা গবেষকদের তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে জানা যায় পাখিটি বাসা বাঁধছে কি না, কখন প্রজনন করছে, এমনকি কার সঙ্গে মিলিত হচ্ছে তাও নির্ধারণ করা সম্ভব।
শিকারির ভয়হীন নিরাপদ আশ্রয়
এই বিরল পাখিগুলোকে রাখা হয়েছে এমন দ্বীপে, যেখানে বিড়াল, কুকুর বা অন্যান্য শিকারি প্রাণীর উপস্থিতি নেই। ফলে তাদের বেঁচে থাকা ও প্রজননের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে।
প্রকৃতির চক্রেই লুকিয়ে বাঁচার আশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিমু গাছের মতো অনেক উদ্ভিদই কখনো প্রচুর ফল দেয়, আবার কখনো খুব কম। এই প্রাকৃতিক চক্রই এবার কাকাপোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে, যা তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ে নতুন গতি দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















