ইউরোপজুড়ে সরকারগুলো দ্রুতগতিতে জনসেবার ডিজিটাল রূপান্তর এগিয়ে নিচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল পরিচয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য করা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে নাগরিকদের আস্থা কীভাবে অর্জন করা যাবে—বিশেষ করে তাদের তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকবে—এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সার্বিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়। বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘এনাবলিং ডিজিটাল গভর্ন্যান্স প্রজেক্ট’ এর মাধ্যমে দেশটি বহুমাত্রিক তথ্য নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে, যা নবীন কর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়। বড় আকারে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান চালুর আগে দক্ষতা ও শাসন কাঠামো শক্তিশালী করার এই কৌশল থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।
ডিজিটাল ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি
জনসেবা অনলাইনে চলে যাওয়ায় এখন শুধু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী নয়, বরং দপ্তরের কর্মচারী ও শিক্ষকসহ অনেকেই সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করছেন। তথ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো প্রায়ই খারাপ উদ্দেশ্যের কারণে নয়, বরং সচেতনতার অভাবে সাধারণ ভুল থেকে ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে সার্বিয়া প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা থেকে সরে এসে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেয়। চার হাজারের বেশি সরকারি কর্মচারীকে তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে তথ্য নিরাপত্তা সরকারি কার্যক্রমের অংশ হয়ে ওঠে।
একই ধরনের প্রশিক্ষণ সবার জন্য কার্যকর নয়
সরকার কর্মীদের ‘ব্যবহারকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ তৈরি করে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ছোট অনলাইন মডিউল ব্যস্ত কর্মীদের জন্য সুবিধাজনক হয়। তথ্যপ্রযুক্তি প্রশাসকরা ব্যবহারিক অনুশীলনে অংশ নেন, আর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন করেন।
এই ভূমিকা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ফলে অংশগ্রহণকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগানোর মতো দক্ষতা অর্জন করেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের চাহিদা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ছিল, যা এর কার্যকারিতা প্রমাণ করে।

স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গুরুত্ব
প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সেবা কেন্দ্র, স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরাও প্রশিক্ষণে আগ্রহ দেখায়। যদিও শুরুতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, পরে সরকার দ্রুত এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে।
দেশজুড়ে সরাসরি প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে বোঝানো হয়, তথ্য সুরক্ষা শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিষয় নয়—এটি সব স্তরের প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আগে শাসন কাঠামো
দেশজুড়ে তথ্য সুরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সেবার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে চ্যাটবট ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুসারে সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি শাসন কাঠামো তৈরি করছে, যাতে ঝুঁকি কমানো যায় এবং জনআস্থা বাড়ে। সরকারি কর্মচারীদের এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি, নৈতিকতা ও জবাবদিহিতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষতার পাশাপাশি শক্তিশালী অবকাঠামো জরুরি
শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিজিটাল সরকারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব নয়। দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সার্বিয়া নিরাপদ জাতীয় অবকাঠামো গড়ে তোলে। নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার শক্তিশালী করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টা চালু নিরাপত্তা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়।
গত এক বছরে এই দলগুলো সরকারের সিস্টেমের ওপর হওয়া লক্ষ লক্ষ সাইবার আক্রমণ শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব
সার্বিয়ার অভিজ্ঞতা দেখায়, বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল সেবা গড়ে তুলতে সময় লাগে এবং ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। দক্ষতা, শাসন কাঠামো এবং নিরাপদ অবকাঠামোতে প্রাথমিক বিনিয়োগ একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে, যা উদ্ভাবন বজায় রেখেই নাগরিকদের আস্থা অর্জনে সহায়ক।
এই কাজের জন্য সার্বিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি ও ই-গভর্ন্যান্স দপ্তরের পরিচালক ড. মিহাইলো জোভানোভিচ এবং তার দলকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
মিশেল কের্ফ, ভান্যা কুক্রিকা ভাসোয়েভিচ, আসামি ওকাহাশি, স্র্দজান স্বিরচেভ 


















