১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা: পরিবর্তনের চাপে নীতি ও বাজারের লড়াই ভরপুর বাজার, তবু সংকটে চীনের খামার শিল্প ব্রাজিলের বায়োফুয়েল শক্তি: জ্বালানি সংকটে এক গোপন ঢাল হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ আখচাষিদের বকেয়া ৩২ গুণ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা আটকে—চাপ বাড়ছে কৃষকের জীবনে উত্তরাখণ্ডে ভাঙন, ছয় নেতা বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ৮ জেলায় তেল সংকট: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে জ্বালানি সরবরাহ থমকে গেছে জনসংখ্যা বদল থামাতে বিজেপিই শেষ ভরসা, তৃণমূলকে ঘিরে শাহের বিস্ফোরক চার্জশিট থাইল্যান্ডে নতুন জীবন খুঁজছেন মিয়ানমারের লাখো মানুষ, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের লড়াই তীব্রতর ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে?

ভরপুর বাজার, তবু সংকটে চীনের খামার শিল্প

চীনের খাদ্যসংস্কৃতিতে শূকরের মাংসের গুরুত্ব ঐতিহাসিক ও গভীর। একসময় এটি ছিল সমৃদ্ধ জীবনের প্রতীক, এমনকি “বাড়ি” শব্দের প্রতীকচিত্রেও ছাদের নিচে একটি শূকরকে দেখানো হয়। এই মাংসের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে সরকার পর্যন্ত কৌশলগতভাবে হিমায়িত শূকরের মাংসের মজুত রাখে। ফলে এই শিল্পের উত্থান-পতন নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনাও চলে।

অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপে বাজারে ধস

গত এক দশকে এই শিল্পে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালে আফ্রিকান সোয়াইন জ্বর ছড়িয়ে পড়লে ছোট খামারগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং মাংসের দাম আকাশছোঁয়া হয়। তবে সেই সংকট কাটিয়ে শিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এখন আবার নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে খাতটি—অতিরিক্ত উৎপাদন।

বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণে, কিন্তু ভোক্তাদের চাহিদা সেই হারে বাড়েনি। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি হয়ে গিয়ে দাম কমে গেছে। মার্চ মাসে জীবিত শূকরের দাম নেমে আসে গত ১৫ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অনেক খামারি প্রতি পশুতে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

আধুনিক খামার, কিন্তু বাড়ছে চাপ

চীনের বড় বড় কোম্পানিগুলো এই খাতে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশাল বহুতল ভবনে হাজার হাজার শূকর লালন-পালন করা হচ্ছে, যেখানে সবকিছুই যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। এমনকি কিছু খামার ২০ তলারও বেশি উঁচু।

এই আধুনিক খামারগুলো একদিকে উৎপাদন বাড়িয়েছে, অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যা এখন পুরো শিল্পকে চাপের মধ্যে ফেলছে।

বদলে যাচ্ছে ভোক্তার অভ্যাস

একসময় চীনের সাধারণ মানুষ বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া শূকরের মাংস খেতে পারতেন না। এখন তা এত সহজলভ্য যে যেকোনো সময় খাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন মুরগি ও সামুদ্রিক খাবারকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করছেন। ফলে শূকরের মাংসের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে।

সরকারি পদক্ষেপেও মিলছে না সমাধান

দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভর্তুকি কমানো, অতিরিক্ত পশু জবাইয়ের নির্দেশ দেওয়া এবং মজুত বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য ফল আসেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় কোম্পানিগুলো এখন বিদেশের বাজারে নজর দিচ্ছে এবং নিজেদের মডেল অন্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

চীনের শূকর খামার শিল্প এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে উৎপাদন বাড়লেও লাভ কমছে। খামারগুলো আকারে বড় হচ্ছে, প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে, কিন্তু বাজারের বাস্তবতা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদন আর কমতে থাকা চাহিদার এই দ্বন্দ্বই এখন শিল্পটির সবচেয়ে বড় সংকট।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা: পরিবর্তনের চাপে নীতি ও বাজারের লড়াই

ভরপুর বাজার, তবু সংকটে চীনের খামার শিল্প

১১:০০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

চীনের খাদ্যসংস্কৃতিতে শূকরের মাংসের গুরুত্ব ঐতিহাসিক ও গভীর। একসময় এটি ছিল সমৃদ্ধ জীবনের প্রতীক, এমনকি “বাড়ি” শব্দের প্রতীকচিত্রেও ছাদের নিচে একটি শূকরকে দেখানো হয়। এই মাংসের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে সরকার পর্যন্ত কৌশলগতভাবে হিমায়িত শূকরের মাংসের মজুত রাখে। ফলে এই শিল্পের উত্থান-পতন নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনাও চলে।

অতিরিক্ত উৎপাদনের চাপে বাজারে ধস

গত এক দশকে এই শিল্পে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালে আফ্রিকান সোয়াইন জ্বর ছড়িয়ে পড়লে ছোট খামারগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং মাংসের দাম আকাশছোঁয়া হয়। তবে সেই সংকট কাটিয়ে শিল্প দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এখন আবার নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে খাতটি—অতিরিক্ত উৎপাদন।

বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণে, কিন্তু ভোক্তাদের চাহিদা সেই হারে বাড়েনি। ফলে বাজারে সরবরাহ বেশি হয়ে গিয়ে দাম কমে গেছে। মার্চ মাসে জীবিত শূকরের দাম নেমে আসে গত ১৫ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। অনেক খামারি প্রতি পশুতে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

আধুনিক খামার, কিন্তু বাড়ছে চাপ

চীনের বড় বড় কোম্পানিগুলো এই খাতে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ব্যাপক উৎপাদন বাড়িয়েছে। বিশাল বহুতল ভবনে হাজার হাজার শূকর লালন-পালন করা হচ্ছে, যেখানে সবকিছুই যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত। এমনকি কিছু খামার ২০ তলারও বেশি উঁচু।

এই আধুনিক খামারগুলো একদিকে উৎপাদন বাড়িয়েছে, অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যা এখন পুরো শিল্পকে চাপের মধ্যে ফেলছে।

বদলে যাচ্ছে ভোক্তার অভ্যাস

একসময় চীনের সাধারণ মানুষ বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া শূকরের মাংস খেতে পারতেন না। এখন তা এত সহজলভ্য যে যেকোনো সময় খাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন মুরগি ও সামুদ্রিক খাবারকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করছেন। ফলে শূকরের মাংসের চাহিদা ধীরে ধীরে কমছে।

সরকারি পদক্ষেপেও মিলছে না সমাধান

দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ভর্তুকি কমানো, অতিরিক্ত পশু জবাইয়ের নির্দেশ দেওয়া এবং মজুত বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য ফল আসেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় কোম্পানিগুলো এখন বিদেশের বাজারে নজর দিচ্ছে এবং নিজেদের মডেল অন্য দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

চীনের শূকর খামার শিল্প এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে উৎপাদন বাড়লেও লাভ কমছে। খামারগুলো আকারে বড় হচ্ছে, প্রযুক্তিতে এগোচ্ছে, কিন্তু বাজারের বাস্তবতা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদন আর কমতে থাকা চাহিদার এই দ্বন্দ্বই এখন শিল্পটির সবচেয়ে বড় সংকট।