০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অনিয়ম সংশোধনে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী আজম মধ্যপ্রাচ্য সংকটেও মিড-জুলাই পর্যন্ত ইউরিয়া সারের মজুদ নিরাপদ: কৃষিমন্ত্রী সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৮৭,৭০০ লিটার অবৈধ জ্বালানি জব্দ, ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত ইরান যুদ্ধ কেন দেশগুলোকে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়ছে খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা জ্বালানি সংকটে লড়াই: রেশনিং, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নীতির নতুন বাস্তবতা ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে ৫% কার্বন ট্যাক্সের শঙ্কা, প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ প্রবাহে ধাক্কা: নির্বাচন, অস্থিরতা আর আস্থাহীনতায় চাপে অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্দেশ, নরওয়ে-অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি কর কমানো

তেলের দামে আগুন, বৈদ্যুতিক গাড়িতে চীনের জোয়ার—বিওয়াইডির বৈশ্বিক বিক্রিতে নতুন গতি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে চীনের শীর্ষ ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি। কোম্পানিটি আশা করছে, বৈশ্বিক বাজারে তাদের বিক্রি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তেলের দামের উল্লম্ফন ও ইভির আকর্ষণ
বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, তা বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানিচালিত গাড়ির খরচ বাড়ায় ক্রেতারা ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন তাদের বিদেশি বিক্রিকে নতুন মাত্রা দেবে।

বিদেশি বাজারে বিক্রির জোয়ার
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো বাজারে বিওয়াইডির দৈনিক বিক্রি এখন এতটাই বেড়েছে, যা আগে দুই সপ্তাহে হতো। কোম্পানিটি তাদের বার্ষিক বিদেশি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ইউনিট করেছে, যা আগের লক্ষ্য থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

দেশীয় বাজারে চাপ, বিদেশে ভরসা
চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় বিওয়াইডি চাপে রয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক নিট মুনাফা ১৯ শতাংশ কমেছে এবং রাজস্ব বৃদ্ধিও ধীর হয়েছে। দেশীয় বাজার এখনও মোট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দিলেও মূল্যযুদ্ধ ও অতিরিক্ত বিপণন মার্জিন কমিয়ে দিচ্ছে।

চীনা গাড়ি নির্মাতাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ
চীনের গাড়ি বাজারে মূল্যযুদ্ধের কারণে স্থানীয় কোম্পানিগুলো এখন বিদেশমুখী হচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন জ্বালানি চালিত গাড়ির রপ্তানি বছরের প্রথম দুই মাসেই ১১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। চেরি ও জিলির মতো কোম্পানিগুলোও দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

বাইডেনকে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করার ...

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির আগেই ২০২৬ সালে চীনা ইভি রপ্তানি শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা ছিল। এখন তেলের দাম বাড়ায় ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর এশিয়ার মতো আমদানিনির্ভর বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নতুন সুযোগ
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এটি চীনা ইভি নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। উন্নত বাজারগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নত হওয়ায় নতুন বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা বাড়াতে সহায়ক।

দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তেলের দাম দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা আরও বাড়বে। বিওয়াইডির মতো কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী মডেল ও বৈশ্বিক উপস্থিতির কারণে এই সুযোগ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে।

বর্তমান সংকটকে অনেকে সাময়িক সুবিধা হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈশ্বিক পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানিচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অনিয়ম সংশোধনে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী আজম

তেলের দামে আগুন, বৈদ্যুতিক গাড়িতে চীনের জোয়ার—বিওয়াইডির বৈশ্বিক বিক্রিতে নতুন গতি

০৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে চীনের শীর্ষ ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি। কোম্পানিটি আশা করছে, বৈশ্বিক বাজারে তাদের বিক্রি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

তেলের দামের উল্লম্ফন ও ইভির আকর্ষণ
বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, তা বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানিচালিত গাড়ির খরচ বাড়ায় ক্রেতারা ঝুঁকছেন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু জানিয়েছেন, এই পরিবর্তন তাদের বিদেশি বিক্রিকে নতুন মাত্রা দেবে।

বিদেশি বাজারে বিক্রির জোয়ার
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো বাজারে বিওয়াইডির দৈনিক বিক্রি এখন এতটাই বেড়েছে, যা আগে দুই সপ্তাহে হতো। কোম্পানিটি তাদের বার্ষিক বিদেশি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৫ লাখ ইউনিট করেছে, যা আগের লক্ষ্য থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

দেশীয় বাজারে চাপ, বিদেশে ভরসা
চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় বিওয়াইডি চাপে রয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক নিট মুনাফা ১৯ শতাংশ কমেছে এবং রাজস্ব বৃদ্ধিও ধীর হয়েছে। দেশীয় বাজার এখনও মোট বিক্রির প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দিলেও মূল্যযুদ্ধ ও অতিরিক্ত বিপণন মার্জিন কমিয়ে দিচ্ছে।

চীনা গাড়ি নির্মাতাদের বৈশ্বিক সম্প্রসারণ
চীনের গাড়ি বাজারে মূল্যযুদ্ধের কারণে স্থানীয় কোম্পানিগুলো এখন বিদেশমুখী হচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন জ্বালানি চালিত গাড়ির রপ্তানি বছরের প্রথম দুই মাসেই ১১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। চেরি ও জিলির মতো কোম্পানিগুলোও দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।

বাইডেনকে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করার ...

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির আগেই ২০২৬ সালে চীনা ইভি রপ্তানি শক্তিশালী থাকার সম্ভাবনা ছিল। এখন তেলের দাম বাড়ায় ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর এশিয়ার মতো আমদানিনির্ভর বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নতুন সুযোগ
বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এটি চীনা ইভি নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। উন্নত বাজারগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নত হওয়ায় নতুন বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে অনেক সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহনের চাহিদা বাড়াতে সহায়ক।

দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তেলের দাম দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা আরও বাড়বে। বিওয়াইডির মতো কোম্পানিগুলো সাশ্রয়ী মডেল ও বৈশ্বিক উপস্থিতির কারণে এই সুযোগ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে।

বর্তমান সংকটকে অনেকে সাময়িক সুবিধা হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈশ্বিক পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জ্বালানিচালিত গাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে পরিণত হচ্ছে।