ভারতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রান্নার জন্য ব্যবহৃত গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় এবার কেরোসিন বিক্রির পথে হাঁটল সরকার। সীমিত সময়ের জন্য দেশের নির্বাচিত পেট্রোল পাম্পগুলোতে কেরোসিন সরবরাহ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংঘাতের কারণে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ভারতে জ্বালানির ওপর চাপ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কেরোসিনকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কেরোসিনকে সাধারণ মানুষের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর মধ্যে।
কোথায় এবং কীভাবে মিলবে কেরোসিন
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচিত পেট্রোল পাম্পে কেরোসিন সংরক্ষণ ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পাম্প সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার লিটার পর্যন্ত কেরোসিন মজুত রাখতে পারবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে প্রায় দুই মাস। এতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
গ্যাসের জন্য শহরে হাহাকার
দেশের বিভিন্ন শহরে রান্নার গ্যাস কিনতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দেওয়ায় অনেকেই বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।

পাইপলাইনের গ্যাসে ঝোঁক বাড়াতে উদ্যোগ
সরকার চাইছে দ্রুত পাইপলাইন গ্যাস ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। এই ব্যবস্থায় সরাসরি ঘরে গ্যাস পৌঁছে যায়, ফলে আলাদা করে সিলিন্ডার বুকিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না। এমনকি যেখানে পাইপলাইনের গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ব্যবস্থায় না গেলে সিলিন্ডার গ্যাস বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা
শহরে পাইপলাইন গ্যাস চালুর ফলে সিলিন্ডার গ্যাসকে গ্রাম ও দুর্গম এলাকায় সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে যেসব অঞ্চলে বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেসব মানুষের জন্য গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
কেরোসিন বিক্রির সিদ্ধান্ত মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। রান্না ও আলোর জন্য সহজলভ্য জ্বালানি হিসেবে এটি আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে এই পদক্ষেপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















