গত সপ্তাহখানেক ধরে দেখতে দেখতে পাচ্ছি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা হঠাৎ ফেসবুকে বেশ সরব হয়েছে।
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন ইউনুস সাহেব নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কার্যকলাপের খবর জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কয়েকজন তাদের facebook অ্যাকাউন্ট থেকে ইউনুসের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এগুলো দেখে আমার খালি মনে হচ্ছিল যে এদের তো আত্মগোপনে বা জেলে থাকার কথা। ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশ সেবার নাম করে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগী যেভাবে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল সে কারণে মনে হয়েছিল তাদের হয়তো বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় তা তো হচ্ছে না; উল্টো তারা এখন লাফ ঝাপ শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম তিনি জাপানে গেছেন। সেই খবরের দেখলাম তিনি সেখানে গেছেন বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত নার্স দের জাপানে চাকরির ব্যবস্থা করতে। আপনারা হয়তো জানেন তিনি নিজে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কতগুলো সুবিধা নিয়েছেন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন থাকার সময়। এর মধ্যে একটা ছিল ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট এর লাইসেন্স নেওয়া। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন তিনি আদম বেপারী হতে গেলেন।

বর্তমান জাপান সফর তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া তিনি এখন ক্ষমতায় নেই। সরকারে থাকলে এই ব্যক্তিগত সফরকে তিনি রাষ্ট্রীয় দ্বীপাক্ষিক সফর হিসেবে দেখিয়ে সঙ্গে বিরাট লাট বহর নিয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করতেন। যেটা তিনি আঠারো মাসে অন্তত ১৪ বার করেছেন।
তার গৃহভৃত্যরা ইউনূসের জাপান সফরকে এমনভাবে প্রচার করছে তাতে মনে হয় জাপানিরা তাদের সমস্ত কাজকর্ম ফেলে এই মহান ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য জড়ো হয়েছেন। ঠিক এই কথাগুলোই তার আঠারো মাসের শাসনামলে অনেকবার শুনেছি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, যে দেশেই যাচ্ছেন লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাকে একবার দেখার জন্য। তিনি নাকি রকস্টারের মত অভ্যর্থনা পাচ্ছেন সব জায়গায়। কিন্তু ওই সব দেশের সংবাদ মাধ্যম ঘেঁটে এর কোন সত্যতা খুঁজে পাইনি। একমাত্র মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য যেখানে গেছেন
দ্বিপাক্ষিক সফরের নামে সেই সব দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে তার কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে জেনেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তার কাতার এবং যুক্তরাজ্য সফর।

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন কোন সরকার প্রধান বিদেশে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গেলে তার সম্মানে সেই দেশের সরকার প্রধান আনুষ্ঠানিক লাঞ্চ বা ডিনারের ব্যবস্থা করেন। সেটা কোথাও হয়েছে বলে শুনিনি।
এই ধাপ্পাবাজি গুলো তিনি মাসের পর মাস করে গেছেন এই গরিব দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করে।
ভেবেছিলাম বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এগুলোর অনুসন্ধান হবে। খবরে দেখতে পেলাম ইতিমধ্যে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে কয়েক ডজন।
সেই অভিযোগগুলোর তদন্ত থেমে গেছে বলে শুনেছি। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যেয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করা এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তি করা। এই চুক্তির অন্যতম কুশীলবরা হল তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। এরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু তাই নয় খলিল এখন এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একবার চিন্তা করে দেখেন তারেক রহমান কিভাবে এই দুর্বৃত্তদের ইমিউনিটি দিয়েছেন।
দুদকে অন্তর্বর্তী সরকারের কত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এটা এখনো পরিষ্কার না। তবে ইউনুসসহ খলিল এবং শেখ বশিরের বিরুদ্ধে তো রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়ার কথা।

স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে এদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই কেন? সংবিধান অনুযায়ী দুদক একটা স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। তাহলে কার নির্দেশে দুদক অন্তবর্তী সরকারের আমলের অভিযোগগুলোর তদন্ত বন্ধ করেছে?
এখানে সাংবাদিকদেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। ভেবেছিলাম কোন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল এটা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করবে এবং আমাদেরকে জানাবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এগুলো দেখে মনে হচ্ছে সেই সাংবাদিকতা সম্ভবত এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে।
(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)
আরশাদ মাহমুদ 


















