০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
সোনার দাম আবার রেকর্ড — ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা চট্টগ্রামে মজুত ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ — জ্বালানি সংকটে সুযোগ নিচ্ছে মুনাফাখোররা শ্বপ্নোর ডেটা চুরি: ৪০ লাখ গ্রাহকের তথ্য ফাঁস, দেড় মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি সার সংকটের শঙ্কা: হরমুজ প্রণালি বন্ধে জুনের পর ইউরিয়া আমদানি অনিশ্চিত রাজা তৃতীয় চার্লস এপ্রিলে ওয়াশিংটন যাচ্ছেন — ইরান যুদ্ধে ব্রিটেন-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপড়েনে গুরুত্বপূর্ণ সফর এপ্রিলেও জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখল সরকার স্পেনে ২০ মাসের লড়াইয়ের পর নারীকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি — ইউরোপজুড়ে নতুন বিতর্ক ইউরোপের পুরনো বিদ্যুৎ গ্রিড পরিষ্কার শক্তির পথে বাধা — ইরান যুদ্ধে সংকট আরো জটিল পোপ লিও XIV-এর কড়া বার্তা: ধনীদের দায়িত্ব নিতে হবে, যুদ্ধ ঈশ্বরের ইচ্ছা নয় ভেনিসিয়ার শীর্ষ শিল্পমেলায় রাশিয়ার পুনরাবির্ভাব: বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার ছায়া

নির্লজ্জ ইউনুস গংয়ের লাফঝাপ

গত সপ্তাহখানেক ধরে দেখতে দেখতে পাচ্ছি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা হঠাৎ ফেসবুকে বেশ সরব হয়েছে।
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন ইউনুস সাহেব নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কার্যকলাপের খবর জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কয়েকজন তাদের facebook অ্যাকাউন্ট থেকে ইউনুসের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এগুলো দেখে আমার খালি মনে হচ্ছিল যে এদের তো আত্মগোপনে বা জেলে থাকার কথা। ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশ সেবার নাম করে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগী যেভাবে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল সে কারণে মনে হয়েছিল তাদের হয়তো বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় তা তো হচ্ছে না; উল্টো তারা এখন লাফ ঝাপ শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম তিনি জাপানে গেছেন। সেই খবরের দেখলাম তিনি সেখানে গেছেন বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত নার্স দের জাপানে চাকরির ব্যবস্থা করতে। আপনারা হয়তো জানেন তিনি নিজে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কতগুলো সুবিধা নিয়েছেন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন থাকার সময়। এর মধ্যে একটা ছিল ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট এর লাইসেন্স নেওয়া। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন তিনি আদম বেপারী হতে গেলেন।
May be an image of text that says 'gettyimages Credit:SAJJADHUSSAIN Credit: SAJJAD HUSSAIN 2259996354'
বর্তমান জাপান সফর তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া তিনি এখন ক্ষমতায় নেই। সরকারে থাকলে এই ব্যক্তিগত সফরকে তিনি রাষ্ট্রীয় দ্বীপাক্ষিক সফর হিসেবে দেখিয়ে সঙ্গে বিরাট লাট বহর নিয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করতেন। যেটা তিনি আঠারো মাসে অন্তত ১৪ বার করেছেন।
তার গৃহভৃত্যরা ইউনূসের জাপান সফরকে এমনভাবে প্রচার করছে তাতে মনে হয় জাপানিরা তাদের সমস্ত কাজকর্ম ফেলে এই মহান ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য জড়ো হয়েছেন। ঠিক এই কথাগুলোই তার আঠারো মাসের শাসনামলে অনেকবার শুনেছি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, যে দেশেই যাচ্ছেন লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাকে একবার দেখার জন্য। তিনি নাকি রকস্টারের মত অভ্যর্থনা পাচ্ছেন সব জায়গায়। কিন্তু ওই সব দেশের সংবাদ মাধ্যম ঘেঁটে এর কোন সত্যতা খুঁজে পাইনি। একমাত্র মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য যেখানে গেছেন
দ্বিপাক্ষিক সফরের নামে সেই সব দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে তার কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে জেনেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তার কাতার এবং যুক্তরাজ্য সফর।
May be an image of coffee cup, newsroom and text
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন কোন সরকার প্রধান বিদেশে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গেলে তার সম্মানে সেই দেশের সরকার প্রধান আনুষ্ঠানিক লাঞ্চ বা ডিনারের ব্যবস্থা করেন। সেটা কোথাও হয়েছে বলে শুনিনি।
এই ধাপ্পাবাজি গুলো তিনি মাসের পর মাস করে গেছেন এই গরিব দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করে।
ভেবেছিলাম বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এগুলোর অনুসন্ধান হবে। খবরে দেখতে পেলাম ইতিমধ্যে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে কয়েক ডজন।
সেই অভিযোগগুলোর তদন্ত থেমে গেছে বলে শুনেছি। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যেয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করা এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তি করা। এই চুক্তির অন্যতম কুশীলবরা হল তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। এরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু তাই নয় খলিল এখন এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একবার চিন্তা করে দেখেন তারেক রহমান কিভাবে এই দুর্বৃত্তদের ইমিউনিটি দিয়েছেন।
দুদকে অন্তর্বর্তী সরকারের কত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এটা এখনো পরিষ্কার না। তবে ইউনুসসহ খলিল এবং শেখ বশিরের বিরুদ্ধে তো রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়ার কথা।
May be an image of one or more people
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে এদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই কেন? সংবিধান অনুযায়ী দুদক একটা স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। তাহলে কার নির্দেশে দুদক অন্তবর্তী সরকারের আমলের অভিযোগগুলোর তদন্ত বন্ধ করেছে?
এখানে সাংবাদিকদেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। ভেবেছিলাম কোন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল এটা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করবে এবং আমাদেরকে জানাবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এগুলো দেখে মনে হচ্ছে সেই সাংবাদিকতা সম্ভবত এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে।

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনার দাম আবার রেকর্ড — ভরিপ্রতি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা

নির্লজ্জ ইউনুস গংয়ের লাফঝাপ

০৫:২৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
গত সপ্তাহখানেক ধরে দেখতে দেখতে পাচ্ছি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গরা হঠাৎ ফেসবুকে বেশ সরব হয়েছে।
আপনারা হয়তো লক্ষ্য করেছেন ইউনুস সাহেব নিজে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তার কার্যকলাপের খবর জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তার আমলের নিয়োগ প্রাপ্ত কয়েকজন তাদের facebook অ্যাকাউন্ট থেকে ইউনুসের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এগুলো দেখে আমার খালি মনে হচ্ছিল যে এদের তো আত্মগোপনে বা জেলে থাকার কথা। ১৮ মাস ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে দেশ সেবার নাম করে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগী যেভাবে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল সে কারণে মনে হয়েছিল তাদের হয়তো বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
দুর্ভাগ্যের বিষয় তা তো হচ্ছে না; উল্টো তারা এখন লাফ ঝাপ শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম তিনি জাপানে গেছেন। সেই খবরের দেখলাম তিনি সেখানে গেছেন বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত নার্স দের জাপানে চাকরির ব্যবস্থা করতে। আপনারা হয়তো জানেন তিনি নিজে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের জন্য কতগুলো সুবিধা নিয়েছেন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন থাকার সময়। এর মধ্যে একটা ছিল ম্যানপাওয়ার এক্সপোর্ট এর লাইসেন্স নেওয়া। এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন তিনি আদম বেপারী হতে গেলেন।
May be an image of text that says 'gettyimages Credit:SAJJADHUSSAIN Credit: SAJJAD HUSSAIN 2259996354'
বর্তমান জাপান সফর তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া তিনি এখন ক্ষমতায় নেই। সরকারে থাকলে এই ব্যক্তিগত সফরকে তিনি রাষ্ট্রীয় দ্বীপাক্ষিক সফর হিসেবে দেখিয়ে সঙ্গে বিরাট লাট বহর নিয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করতেন। যেটা তিনি আঠারো মাসে অন্তত ১৪ বার করেছেন।
তার গৃহভৃত্যরা ইউনূসের জাপান সফরকে এমনভাবে প্রচার করছে তাতে মনে হয় জাপানিরা তাদের সমস্ত কাজকর্ম ফেলে এই মহান ব্যক্তিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য জড়ো হয়েছেন। ঠিক এই কথাগুলোই তার আঠারো মাসের শাসনামলে অনেকবার শুনেছি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, যে দেশেই যাচ্ছেন লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তাকে একবার দেখার জন্য। তিনি নাকি রকস্টারের মত অভ্যর্থনা পাচ্ছেন সব জায়গায়। কিন্তু ওই সব দেশের সংবাদ মাধ্যম ঘেঁটে এর কোন সত্যতা খুঁজে পাইনি। একমাত্র মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য যেখানে গেছেন
দ্বিপাক্ষিক সফরের নামে সেই সব দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে তার কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি বলে জেনেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তার কাতার এবং যুক্তরাজ্য সফর।
May be an image of coffee cup, newsroom and text
আপনারা নিশ্চয়ই জানেন কোন সরকার প্রধান বিদেশে আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গেলে তার সম্মানে সেই দেশের সরকার প্রধান আনুষ্ঠানিক লাঞ্চ বা ডিনারের ব্যবস্থা করেন। সেটা কোথাও হয়েছে বলে শুনিনি।
এই ধাপ্পাবাজি গুলো তিনি মাসের পর মাস করে গেছেন এই গরিব দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করে।
ভেবেছিলাম বর্তমান তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এগুলোর অনুসন্ধান হবে। খবরে দেখতে পেলাম ইতিমধ্যে ইউনুস এবং তার কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে কয়েক ডজন।
সেই অভিযোগগুলোর তদন্ত থেমে গেছে বলে শুনেছি। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণে যেয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করা এবং আমেরিকার সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিরোধী বাণিজ্য চুক্তি করা। এই চুক্তির অন্যতম কুশীলবরা হল তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। এরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। শুধু তাই নয় খলিল এখন এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একবার চিন্তা করে দেখেন তারেক রহমান কিভাবে এই দুর্বৃত্তদের ইমিউনিটি দিয়েছেন।
দুদকে অন্তর্বর্তী সরকারের কত জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে এটা এখনো পরিষ্কার না। তবে ইউনুসসহ খলিল এবং শেখ বশিরের বিরুদ্ধে তো রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা হওয়ার কথা।
May be an image of one or more people
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে এদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কোন পদক্ষেপ নেই কেন? সংবিধান অনুযায়ী দুদক একটা স্বাধীন সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। তাহলে কার নির্দেশে দুদক অন্তবর্তী সরকারের আমলের অভিযোগগুলোর তদন্ত বন্ধ করেছে?
এখানে সাংবাদিকদেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। ভেবেছিলাম কোন পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল এটা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট করবে এবং আমাদেরকে জানাবে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এগুলো দেখে মনে হচ্ছে সেই সাংবাদিকতা সম্ভবত এ দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে।

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)