বর্তমান নির্বাচনী চক্রে চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই চার বিধানসভা নির্বাচন হলো পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু, কেরালা এবং আসামের। এছাড়াও পুদুচেরি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও ভোট দিচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলো থেকে মোট ৮২৪ জন বিধায়ক নির্বাচিত হবেন, যা ভারতের মোট ৪,১২৩টি বিধায়ক নির্বাচনের মধ্যে এক একক নির্বাচনী চক্র হিসেবে সর্ববৃহৎ।
তবে এই নির্বাচনী চক্রের গুরুত্ব কেবল কেন্দ্রের সংখ্যা দিয়ে নয়। মুসলিম প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দুস্তান টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চারটি রাজ্য এবং পুদুচেরি দেশের মোট মুসলিম বিধায়কের ৪১.৬% ভাগ নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে তিনটি রাজ্যে – পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং আসাম – মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুপাত তুলনামূলকভাবে বেশি, যা এই নির্বাচনী চক্রকে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
ভারতের ৩১টি বিধানসভা মোট ৪,১২৩ জন বিধায়ক নির্বাচিত করে। সম্প্রতি নির্বাচিত বিধায়কদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ২৭৯ জন মুসলিম। অর্থাৎ দেশের মুসলিম বিধায়কের অংশীদারিত্ব মাত্র ৬.৮%, যা তাদের মোট জনসংখ্যার ১৪.২% এর তুলনায় অনেক কম।
রাজ্যভিত্তিক মুসলিম প্রতিনিধিত্বে বড় বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। চারটি রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, উত্তরপ্রদেশ) এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (জম্মু ও কাশ্মীর) সাম্প্রতিক নির্বাচনে মোট মুসলিম বিধায়কের ৭১% নির্বাচিত করেছে, যা দেশের মুসলিম জনসংখ্যার ৫৩% অংশের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া, প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মুসলিম বিধায়কের অনুপাত তাদের প্রয়োজনীয় জনসংখ্যার তুলনায় কম।

উত্তরপ্রদেশ বাদে দেশের শীর্ষ তিনটি রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং আসাম – এই নির্বাচনী চক্রে ভোট দিচ্ছে। এটি মুসলিম প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে দেশজুড়ে এই নির্বাচনী চক্রকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। মুসলিম জনসংখ্যার সঙ্গে বিধায়ক নির্বাচনের সরল অনুপাত না থাকার কারণ হলো রাজ্যের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যার অভ্যন্তরীণ বিতরণ।
ভারতে নির্বাচনী কেন্দ্রে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার বিস্তারিত তথ্য নেই, তবে জেলা স্তরে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার হিসাব পাওয়া যায়। হিন্দুস্তান টাইমসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্প্রতি নির্বাচিত মুসলিম বিধায়কের ৪৪% রাজ্যের এমন জেলায় এসেছে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যার অংশ ৫০% এর বেশি, আর ৩৫% রাজ্যের এমন জেলায় এসেছে যেখানে মুসলিম জনসংখ্যার অংশ ৬৫% এর বেশি। অর্থাৎ একটি জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি হলে মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং কেরালা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক এগিয়ে। হিন্দুস্তান টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন ৪৯২টি নির্বাচনী কেন্দ্রে যেখানে মুসলিমের অংশ কমপক্ষে ২৫% সেখানে ৫৮% এই তিন রাজ্যের। দেশের মোট বিধায়কের ১৪% অংশের তুলনায় এটি অনেক বেশি। এটি এই রাজ্যগুলিতে মুসলিম বিধায়কের উচ্চ অংশের মূল কারণ। উদাহরণস্বরূপ, উত্তরপ্রদেশে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা ২০১২ সালে ৬৮ থেকে ২০১৭ এবং ২০২২ সালে যথাক্রমে ২৩ ও ৩৪ এ নেমে আসে, যা মূলত বিজেপি দলের আসন বৃদ্ধির ফলে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির ক্ষতির প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















