যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস খনন বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই উদ্যোগ বিশ্বের অন্যতম বিরল তিমি ‘রাইস তিমি’-কে চূড়ান্তভাবে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
গালফ অঞ্চলে সংকটের মুখে রাইস তিমি
মেক্সিকো উপসাগরেই পুরো জীবন কাটায় রাইস তিমি। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে এই তিমির সংখ্যা একশোরও কম। ২০২১ সালে এটিকে স্বতন্ত্র প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। উপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এদের বেশি দেখা যায়।
এই তিমিগুলো দিনে গভীর পানিতে নেমে চর্বিযুক্ত মাছ শিকার করে এবং রাতে পানির কাছাকাছি বিশ্রাম নেয়। কিন্তু এই স্বাভাবিক জীবনচক্র এখন হুমকির মুখে। জাহাজের ধাক্কা, শব্দ দূষণ, তেল ছড়িয়ে পড়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ঝুঁকি আগেই ছিল, নতুন করে খনন বাড়লে এসব ঝুঁকি আরও তীব্র হবে।

তেল খনন পরিকল্পনায় আইনি ছাড়
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি তুলে ধরে সংরক্ষিত প্রাণী সংক্রান্ত আইন থেকে ছাড় চেয়েছে। বিরল ব্যবহৃত একটি বিশেষ কমিটি এই আবেদন মঞ্জুর করেছে। ফলে সংরক্ষিত প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে—এমন কার্যক্রম চালানোর পথ এখন আরও সহজ হয়ে গেল।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা আরও গভীর
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস তিমি ইতোমধ্যেই ‘টিকে থাকার সীমার’ মধ্যে রয়েছে। অতীতে বড় তেল দুর্ঘটনায় এদের একটি বড় অংশ মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও এখনও বিদ্যমান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
নতুন তেল খনন প্রকল্প স্থানীয় ঝুঁকি যেমন বাড়াবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশগত ক্ষতিও বাড়াবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
অন্যান্য প্রাণীর ওপরও প্রভাব

এই অঞ্চলে শুধু তিমিই নয়, বিপন্ন সামুদ্রিক কচ্ছপ ও ম্যানাটির মতো প্রাণীরাও ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর শত শত কচ্ছপকে উদ্ধার করে পুনর্বাসন দেওয়া হয়, কিন্তু তেল ছড়িয়ে পড়া বা দূষণ বাড়লে তাদের টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়বে।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ইতিহাস
এই বিশেষ কমিটি অতীতে খুব কম ক্ষেত্রেই এমন ছাড় দিয়েছে। পূর্বে একটি বাঁধ নির্মাণ এবং একটি বনাঞ্চলে কাঠ কাটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা পরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। এবারও একইভাবে পরিবেশবাদীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















