দক্ষিণ লেবাননে নতুন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েল শিয়াদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা খালি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে গোপনে স্থানীয় খ্রিস্টান ও ড্রুজ নেতাদের বলা হয়েছে, তাদের অঞ্চল থেকে শিয়াদের সরাতে হবে। বিশিষ্ট শিয়ারা দক্ষিণ লেবাননের সংখ্যাগরিষ্ঠ, এবং এই নির্দেশনা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
শিয়াদের ওপর চাপ
আলি নাসের নামে এক ২৬ বছর বয়সী শিয়া বলেন, “ইসরায়েল চাইছে নতুন বাফার জোন তৈরি করতে। আমাদেরকে এখান থেকে বের হতে হবে। আমরা কী করতে পারি?” সীমান্তবর্তী এআইতারুন গ্রাম থেকে পালিয়ে শরণার্থী হিসাবে খ্রিস্টান শহর রমিশে আসতে হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে পৌরসভা তাদের পুনরায় চলে যেতে বলেছে।

মানবাধিকার উদ্বেগ
এই নির্দেশনার কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, এটি জোরপূর্বক স্থানান্তর বা ধর্মভিত্তিক নিপীড়নের শামিল হতে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সিনিয়র গবেষক নাদিয়া হার্ডম্যান বলেন, “কিছু এলাকায় শুধু শিয়া নাগরিকদের বের করতে বলা হচ্ছে, যা নিরাপদে উচ্ছেদ দাবি থেকে ভিন্ন।”
দুষ্প্রাপ্য আশ্রয় ও বিভক্তি
শিয়ারা আশ্রয় খুঁজতে খ্রিস্টান ও ড্রুজ সম্প্রদায়ের শহরে গিয়েও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মারজায়ুন ও হাসবায়া মতো শহরে স্থানীয় নেতারা শিয়াদের চলে যেতে বললেও, ভবিষ্যতের প্রতিশোধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ মনে করেন, যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলের উপস্থিতি শহরকে হেফাজত দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ অজানা

৫৮ বছর বয়সী সানাহ সাদ তার শহর ছেড়ে আসার পর আশ্রয়প্রার্থী হিসাবে স্কুলে থাকা অবস্থায় ভবিষ্যতের জন্য আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “যদি আমাদের আর কোথাও নেওয়া না হয়, আমরা কি রাস্তার ধারে ঘুমাবো? যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রার্থনা করি।”
দক্ষিণ লেবাননের এই সংঘাত শুধু ভূগোল নয়, ধর্মীয় ও জনসংখ্যাগত মানচিত্রকেও পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















