০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী? নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে দেশে মৃত ৫৪, আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আরও এক সন্দেহভাজন হামে শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫৯ কর্ণাটকের মুকাম্বিকা মন্দিরে হাতি চেয়ে কেরালাকে অনুরোধ, নতুন আলোচনা দুই রাজ্যে ওলি রবিনসের আইনি লড়াই, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন বিতর্ক চীনের বিমানবাহী রণতরী শক্তি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা, পাইলট ও নাবিক তৈরিতে বড় পরিবর্তন জাপানে বিদেশি কর্মী বাড়ায় রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে বিদেশে পাঠানো হলো ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন ভিয়েতনামে ৩০ কোটি ডলারের বিশাল কারখানা খুলল সানটোরি পেপসিকো, লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর পানীয়ের বাড়তি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের দখলে হিলিয়াম বাজার, ইরান যুদ্ধ ও চীনের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় চাপে এশিয়ার চিপ শিল্প

পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়

পেটের মেদ বা ভুঁড়ি এখন শুধু মধ্যবয়সীদের সমস্যা নয়, তরুণদের মধ্যেও এটি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মেদ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যেই প্রভাব ফেলে না, এটি শরীরের জন্যও নানা ধরনের জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, কোমরের মাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ভবিষ্যতের গুরুতর অসুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি

Reasons You're Not Losing Belly Fat

পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্যহীনতা। অনেকের দৈনন্দিন খাবারে ভাত, রুটি ও অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ বেশি থাকলেও প্রোটিনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমা হয়ে ধীরে ধীরে চর্বিতে রূপান্তরিত হয়।

এছাড়া মিষ্টি চা, বিস্কুট, কোমল পানীয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত হালকা খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকায় শরীরে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।

কমে যাচ্ছে শারীরিক সক্রিয়তা

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক পুরুষকেই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয়। অফিস, যানজট এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার কারণে দৈনন্দিন হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা কমে গেছে। ফলে শরীরে যে পরিমাণ ক্যালোরি প্রবেশ করছে, তার তুলনায় অনেক কম ক্যালোরি খরচ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া না থাকলে অতিরিক্ত শক্তি পেটের চারপাশে জমে ভুঁড়ি তৈরি করে। তাই সুস্থ ওজন বজায় রাখতে প্রতিদিন সক্রিয় থাকা জরুরি।

দেরিতে রাতের খাবারের প্রভাব

Pandemic Got You Stressed? How Losing Sleep Affects Your Health | UKNow

অনেকেই রাত ১০টা বা ১১টার পর রাতের খাবার খেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুমাতে যান। এতে খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। ফলস্বরূপ অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতের খাবার সম্ভব হলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতির প্রভাব

স্থূলতার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা ক্ষুধা বাড়ায় এবং চর্বি জমার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।

High Protein Diet: The Ultimate Guide | Ulta Lab Tests

 

অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেভাবে কমাবেন পেটের মেদ

পেটের মেদ কমাতে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ ও পনির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে চিনি, কোমল পানীয় এবং জাঙ্ক ফুড কমিয়ে আনতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রান্স-আলজেরিয়া সম্পর্কের শিক্ষা: সংঘাত নয়, কূটনীতির পথই কি শেষ পর্যন্ত জয়ী?

পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়

০২:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পেটের মেদ বা ভুঁড়ি এখন শুধু মধ্যবয়সীদের সমস্যা নয়, তরুণদের মধ্যেও এটি দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মেদ শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যেই প্রভাব ফেলে না, এটি শরীরের জন্যও নানা ধরনের জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

পেটের চারপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং কিডনি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, কোমরের মাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া ভবিষ্যতের গুরুতর অসুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি

Reasons You're Not Losing Belly Fat

পেটের মেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্যহীনতা। অনেকের দৈনন্দিন খাবারে ভাত, রুটি ও অন্যান্য শর্করাজাতীয় খাবারের পরিমাণ বেশি থাকলেও প্রোটিনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমা হয়ে ধীরে ধীরে চর্বিতে রূপান্তরিত হয়।

এছাড়া মিষ্টি চা, বিস্কুট, কোমল পানীয় এবং বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত হালকা খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি ও অতিরিক্ত ক্যালোরি থাকায় শরীরে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমার প্রবণতা বাড়ে।

কমে যাচ্ছে শারীরিক সক্রিয়তা

বর্তমান কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক পুরুষকেই দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয়। অফিস, যানজট এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনধারার কারণে দৈনন্দিন হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা কমে গেছে। ফলে শরীরে যে পরিমাণ ক্যালোরি প্রবেশ করছে, তার তুলনায় অনেক কম ক্যালোরি খরচ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া না থাকলে অতিরিক্ত শক্তি পেটের চারপাশে জমে ভুঁড়ি তৈরি করে। তাই সুস্থ ওজন বজায় রাখতে প্রতিদিন সক্রিয় থাকা জরুরি।

দেরিতে রাতের খাবারের প্রভাব

Pandemic Got You Stressed? How Losing Sleep Affects Your Health | UKNow

অনেকেই রাত ১০টা বা ১১টার পর রাতের খাবার খেয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুমাতে যান। এতে খাবার হজমের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না। ফলস্বরূপ অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতের খাবার সম্ভব হলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শেষ করা ভালো। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতির প্রভাব

স্থূলতার পেছনে শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা ক্ষুধা বাড়ায় এবং চর্বি জমার প্রবণতা বৃদ্ধি করে।

High Protein Diet: The Ultimate Guide | Ulta Lab Tests

 

অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেভাবে কমাবেন পেটের মেদ

পেটের মেদ কমাতে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, দুধ ও পনির অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে চিনি, কোমল পানীয় এবং জাঙ্ক ফুড কমিয়ে আনতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন নিয়মিত ব্যায়াম করা উপকারী। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং সময়মতো ঘুমানোর অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।