ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জেপিমরগান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডাইমন। তার মতে, এই যুদ্ধের প্রভাবে তেল ও পণ্যের দামে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা নতুনভাবে গড়ে উঠতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের ধারণার চেয়েও বেশি হারে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়তে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি
প্রতি বছরের মতো প্রকাশিত শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে ডাইমন এই সংঘাতকে বৈশ্বিক অর্থনীতির সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বার্তা ওয়াল স্ট্রিট ও ব্যবসায়িক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যে সংঘাত চলছে, তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা, এবং বিশ্বের অন্যান্য বড় সংঘাতগুলো একত্রে প্রমাণ করছে যে বিশ্ব আর আগের মতো নিরাপদ নয়।
জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ
ডাইমনের মতে, ইরান সংশ্লিষ্ট এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়ে।
একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। কোম্পানিগুলো নিরাপদ ও স্থিতিশীল উৎস খুঁজতে গিয়ে তাদের উৎপাদন ও বাণিজ্য কৌশল পুনর্গঠন করতে বাধ্য হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
ডাইমন সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। এতে ঋণের খরচ বাড়বে এবং বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যে ঝুঁকি হিসাব করছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়েও বেশি জটিল হতে পারে। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব আর নিরাপদ নয়—নতুন বাস্তবতা
ডাইমন স্পষ্টভাবে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—বিশ্ব আর আগের মতো স্থিতিশীল ও নিরাপদ নয়। এই নতুন বাস্তবতায় অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই নতুনভাবে ভাবতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















