০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
কিয়ার স্টারমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা: শিশুদের সুরক্ষা নাকি বড়দের জন্যও সতর্কবার্তা? বাংলাদেশি পণ্যের জন্য বিশ্ববাজারে নতুন দুয়ার, সরাসরি অনলাইন রপ্তানির সুযোগ সহজ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারি নতুন পাটকল নয়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই পুনরুজ্জীবনের পথে পাটশিল্প যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে মোদি সরকারকে নিশানা কংগ্রেসের, ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ঢাকার বাইরে যাচ্ছে তিন প্রধান বাস টার্মিনাল, যানজট কমাতে নতুন পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা, শান্তি চুক্তির আগে রয়ে গেছে বড় শর্ত যুদ্ধ শেষের পথে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতিতে ভারত; সার আমদানি ও চাবাহার বন্দর ব্যবহারে নতুন আশা হলফনামায় ‘মিথ্যা তথ্য’ বিতর্ক: হান্নান মাসউদের এমপি পদ বাতিলের দাবি রাশেদ খাঁনের রূপপুরে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত, সাময়িক বন্ধ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ধর্ম, ভিনগ্রহের প্রাণ ও অজানার বিতর্ক: নতুন করে আলোচনায় বিশ্বাসের প্রশ্ন

হরমুজ প্রণালীতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি, শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাসের সংঘাত শেষ করার ঘোষণা এলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী এখনও কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। সোমবার সকালে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় দেখা যায়নি, যা বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা এবং অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।

জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে কেবল একটি টহল জাহাজ চলাচল করছিল। অন্যদিকে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিকের চলাচল শুরু

তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নড়াচড়া দেখা যায়। ভারতের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেটের জন্য ভাড়া করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ ‘দিশা’ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর একটি হিসেবে নজরে আসে। জাহাজটি পূর্বমুখী হয়ে প্রণালী থেকে বেরিয়ে যায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সকালে জাহাজটি সাময়িকভাবে নিজেকে ভারত সরকারের জাহাজ হিসেবে শনাক্তকারী সংকেত সম্প্রচার করেছিল। জাহাজটি মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

শান্তি চুক্তির ঘোষণা

সোমবার হংকং সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সংঘাতের অবসানের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘোষণার পরও বাস্তবে প্রণালী পুরোপুরি চালু হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অনিশ্চয়তা কাটেনি

বাণিজ্যিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক জু মুইউ বলেন, চুক্তি ঘিরে এখনও অনেক বিষয় অস্পষ্ট এবং পুরো সমঝোতাটি বেশ ভঙ্গুর বলে মনে হচ্ছে।

তার মতে, শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেও নতুন কোনো বিঘ্ন বা উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও পরিষ্কার নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কি আগে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে কিংবা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও জানা যায়নি।

A 'full normalization scenario' for oil is still out of reach — even with the  Strait of Hormuz now open - MarketWatch

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা। হরমুজ প্রণালী খুলে গেলেও জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে কি না, তা অনিশ্চিত।

অনেক জাহাজ মালিক এখনও সম্ভাব্য মাইন, নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা অন্য কোনো হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী খুলে গেলেও বাণিজ্যিক আস্থা ফিরতে সময় লাগতে পারে।

শত শত জাহাজ অপেক্ষায়

ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে ৫৬২টি জাহাজ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ পণ্যবোঝাই ছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এর আগেই সতর্ক করেছিল, যুদ্ধ অবসানের জন্য কোনো চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ফলে শান্তি চুক্তির ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

হরমুজ প্রণালী শান্তি চুক্তি

শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত। শত শত জাহাজ অপেক্ষায়, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও কয়েক মাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিয়ার স্টারমারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা: শিশুদের সুরক্ষা নাকি বড়দের জন্যও সতর্কবার্তা?

হরমুজ প্রণালীতে এখনও থমথমে পরিস্থিতি, শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে

০৫:২৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাসের সংঘাত শেষ করার ঘোষণা এলেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী এখনও কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। সোমবার সকালে প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় দেখা যায়নি, যা বিশ্লেষকদের মতে পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা এবং অনিশ্চয়তারই প্রতিফলন।

জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে কেবল একটি টহল জাহাজ চলাচল করছিল। অন্যদিকে শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও পারস্য উপসাগর এলাকায় অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিকের চলাচল শুরু

তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা নড়াচড়া দেখা যায়। ভারতের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেটের জন্য ভাড়া করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ ‘দিশা’ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা প্রথম বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর একটি হিসেবে নজরে আসে। জাহাজটি পূর্বমুখী হয়ে প্রণালী থেকে বেরিয়ে যায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সকালে জাহাজটি সাময়িকভাবে নিজেকে ভারত সরকারের জাহাজ হিসেবে শনাক্তকারী সংকেত সম্প্রচার করেছিল। জাহাজটি মার্চ মাসে কাতারের রাস লাফান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

শান্তি চুক্তির ঘোষণা

সোমবার হংকং সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সংঘাতের অবসানের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘোষণার পরও বাস্তবে প্রণালী পুরোপুরি চালু হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অনিশ্চয়তা কাটেনি

বাণিজ্যিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক জু মুইউ বলেন, চুক্তি ঘিরে এখনও অনেক বিষয় অস্পষ্ট এবং পুরো সমঝোতাটি বেশ ভঙ্গুর বলে মনে হচ্ছে।

তার মতে, শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেও নতুন কোনো বিঘ্ন বা উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও পরিষ্কার নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কি আগে অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে কিংবা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও জানা যায়নি।

A 'full normalization scenario' for oil is still out of reach — even with the  Strait of Hormuz now open - MarketWatch

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্লেষকদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো সামুদ্রিক নিরাপত্তা। হরমুজ প্রণালী খুলে গেলেও জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে কি না, তা অনিশ্চিত।

অনেক জাহাজ মালিক এখনও সম্ভাব্য মাইন, নিরাপত্তা ঝুঁকি কিংবা অন্য কোনো হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালী খুলে গেলেও বাণিজ্যিক আস্থা ফিরতে সময় লাগতে পারে।

শত শত জাহাজ অপেক্ষায়

ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে ৫৬২টি জাহাজ অবস্থান করছিল। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ পণ্যবোঝাই ছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এর আগেই সতর্ক করেছিল, যুদ্ধ অবসানের জন্য কোনো চুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ফলে শান্তি চুক্তির ঘোষণা বাজারে স্বস্তি আনলেও বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

হরমুজ প্রণালী শান্তি চুক্তি

শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনও সীমিত। শত শত জাহাজ অপেক্ষায়, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও কয়েক মাস।