ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানি ও কুরাসাওর ম্যাচ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কর্মকর্তার হাতের একটি ইশারাকে কেন্দ্র করে বর্ণবাদবিরোধী পর্যবেক্ষক সংস্থা তার অপসারণ দাবি করেছে।
রোববার ম্যাচ শুরুর আগে সম্প্রচারকারীরা যখন ভিএআর কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল, তখন অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তা শন ইভানসকে একটি বিশেষ হাতের ইশারা করতে দেখা যায়। তার ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনী দিয়ে তৈরি করা বৃত্তাকৃতি চিহ্নটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, এটি উল্টোভাবে প্রদর্শিত একটি ‘ওকে’ চিহ্ন, যা কিছু উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠী ‘শ্বেত আধিপত্যের’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে।
বর্ণবাদবিরোধী সংস্থার কড়া অবস্থান
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বর্ণবাদ ও বৈষম্য পর্যবেক্ষণে দীর্ঘদিন কাজ করা একটি সংস্থা বলেছে, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইভানসের ব্যবহার করা ইশারাটি এমন একটি প্রতীকের সঙ্গে মিলে যায়, যা বিশ্বের বিভিন্ন উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে পরিচিত।
সংস্থাটির মতে, এমন পরিস্থিতিতে ওই কর্মকর্তার বিশ্বকাপের বাকি অংশে কোনো ভূমিকা রাখা উচিত নয়। তারা ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইশারার অর্থ নিয়ে বিতর্ক
তবে ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। শন ইভানস ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শগত বার্তা দিতে চেয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
একই ধরনের হাতের চিহ্ন অনেক বছর ধরেই শিশু-কিশোরদের একটি মজার খেলায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই খেলায় কোমরের নিচে উল্টো ‘ওকে’ চিহ্ন দেখিয়ে অন্য কাউকে সেটির দিকে তাকাতে প্রলুব্ধ করা হয়। পরে বিভিন্ন অনলাইন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী এই প্রতীককে নিজেদের বার্তা প্রচারের জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো হাতের ইশারার অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই প্রতীক এক পরিস্থিতিতে নিরীহ হতে পারে, আবার অন্য পরিস্থিতিতে ঘৃণা বা বৈষম্যের বার্তা বহন করতে পারে।
ফিফার নজরে ঘটনা
শন ইভানস এবারের বিশ্বকাপে নির্বাচিত ৩০ জন ভিএআর কর্মকর্তার একজন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার পর ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে যে বিশ্বমঞ্চে কর্মরত কর্মকর্তাদের আচরণ ও প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে ফুটবল মহলে প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং ফিফার সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে সবাই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















