যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং সংঘাত সমাধানের আলোচনা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও বৈশ্বিক তেলের বাস্তব বাজারে চাপ কমার কোনো তাত্ক্ষণিক লক্ষণ নেই।
তেলের দামে বড় পতন
যুদ্ধবিরতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এশিয়ার বাজারে সর্বোচ্চ ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.৭০ ডলারে নেমে আসে, যা আগের দিন ছিল ১০৯.২৭ ডলার। এই পতন মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতি সাময়িকভাবে ঠান্ডা হওয়ার আশাবাদের প্রতিফলন।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত, কারণ দুই পক্ষের মধ্যে মূল ইস্যুগুলোতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

আলোচনার অনিশ্চয়তা
শান্তি আলোচনা পাকিস্তানে শুরু হওয়ার কথা এবং তা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এই আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধ আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
বাস্তব বাজারে চাপ অব্যাহত
যুদ্ধবিরতি হলেও তেলের প্রকৃত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এশিয়ার তেল বাজারে এই চাপ আরও কয়েক মাস থাকতে পারে।
সৌদি আরবের মূল্য বৃদ্ধি
এই সংকটের একটি বড় উদাহরণ হলো সৌদি আরামকোর সিদ্ধান্ত। তারা মে মাসের জন্য তাদের তেলের সরকারি বিক্রয়মূল্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়িয়েছে। এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আরব লাইট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৯.৫০ ডলার প্রিমিয়ামে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় অনেক বেশি।
এশিয়ার ক্রেতাদের চাপ

এই উচ্চ মূল্যের কারণে এশিয়ার অনেক পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান যেকোনো মূল্যে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। যদি বর্তমান দাম বজায় থাকে, তাহলে মে মাসে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বাণিজ্য প্রবাহে পরিবর্তন
উচ্চ দামের কারণে চীন বিকল্প উৎস থেকে সস্তা তেল খুঁজতে পারে, যেমন রাশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা। এতে সৌদি তেলের সরবরাহ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশে বাড়তে পারে, যেখানে বর্তমানে সরবরাহ কমে গেছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ভিন্ন চিত্র
বাজারের এই অস্থিরতায় উন্নত দেশগুলো উচ্চ মূল্যে হলেও তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে, যা তাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যুদ্ধবিরতি কিছুটা স্বস্তি দিলেও তেলের বৈশ্বিক বাজারে সংকট এখনো কাটেনি। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে এবং এই সময়ে বাজারে অস্থিরতা ও চাপ অব্যাহত থাকবে।
ক্লাইড রাসেল 



















