নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেছে। এই পরিস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ভোটার তালিকায় বড় কাটছাঁট
সর্বশেষ বিচারিক পর্যালোচনা শেষে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লাখে।
এর ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লাখ, তা কমে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭৫ লাখে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৩৪ লাখ।
সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত এলাকা
ভোটার বাদ পড়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে মুর্শিদাবাদ জেলায়, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর হার বেশি। এখানে বিচারিক যাচাইয়ে পাঠানো ১১ লাখের বেশি নামের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার বাদ পড়েছে।
এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। মালদা জেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার বাদ পড়েছেন।

শেষ সুযোগ হারালেন বহু ভোটার
বাদ পড়া এই ২৭ লাখ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে রাজ্যের ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের ওপর। ইতোমধ্যে এসব ট্রাইব্যুনালে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন প্রভাবিত মানুষ।
তবে আসন্ন নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। কারণ, প্রথম দফার ভোটের তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার তালিকাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হলেও, তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে বাদ পড়া ভোটারদের জন্য আর কোনো সুযোগ থাকছে না এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে “ভোট চুরি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের কথাও উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে সরানো হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বাদ পড়া ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা যায়।
নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এতে ভোটের ফলাফল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















