০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন রিকন্ডিশন গাড়ির বাজারে ধস, এক মাসে বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে জ্বালানি সংকটে ধস মোটরসাইকেল বাজারে, গ্রামে বিক্রি কমেছে ৭০-৮০ শতাংশ বাংলাদেশে হাম ঝুঁকি এখনও উচ্চ, জরুরি টিকাদান জোরদারের তাগিদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা: প্রবৃদ্ধির মাঝেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা ব্রিটেন-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন: ট্রাম্প যুগে ‘স্পেশাল রিলেশনশিপ’ কি নতুন পথে? আইফোনের যুগের শেষপ্রান্তে অ্যাপল: নতুন নেতৃত্বে কি বদলাবে কৌশল? ইসলামাবাদ আলোচনায় প্রতিনিধিত্বের মান নামালো যুক্তরাষ্ট্র, তবু ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ইসরায়েলের জন্য আসল সংকট: আমেরিকার সমর্থন হারানোর ঝুঁকি ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়াতে সংকটে ইসরায়েল 

ওড়িশা দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

ওড়িশা এখন ভারতের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান রাজ্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং আগামী দশকগুলোতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরন মাঝি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৬ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপান্তরের পথে ওড়িশা
ভুবনেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওড়িশা এখন আর শুধু সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য পরিচিত নয়, বরং শিল্প, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, রাজ্যটি বর্তমানে এমন এক পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে এটি বৈশ্বিক শিল্প ও প্রযুক্তি মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে।

উন্নয়নের ভিত্তি ও শক্তি
মাঝি বলেন, ওড়িশার এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, দীর্ঘ উপকূলরেখা, কৌশলগত অবস্থান, দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী, স্থিতিশীল প্রশাসন এবং জনগণের দৃঢ় মানসিকতা। এসব উপাদান মিলেই রাজ্যের উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে।

সমন্বিত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণ
সরকার বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সমানভাবে উৎসাহ দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এই সমন্বিত নীতির ফলে দেশ-বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন খাত
ওড়িশার উন্নয়নে অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প এবং ৭০ হাজার কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বন্দর, জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক এবং পর্যটনের মতো খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা
ভুবনেশ্বর-কটক-পুরী-প্যারাদ্বীপ অঞ্চলকে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাপিটাল রিজিয়ন রিং রোড ও উপকূলীয় মহাসড়কের মতো বড় প্রকল্প সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

উদ্যোক্তা ও স্বীকৃতির গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও অধ্যবসায়ই সফলতার মূল চাবিকাঠি—এ বার্তা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।

মিডিয়ার ভূমিকা
মাঝি বলেন, সংবাদমাধ্যম এখন শুধু খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের মতামত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার সত্ত্বেও প্রিন্ট মিডিয়া এখনও মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর তুলে ধরে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
শেষে তিনি সরকার, শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন, যাতে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী ওড়িশা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন

ওড়িশা দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

০৭:২০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ওড়িশা এখন ভারতের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান রাজ্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং আগামী দশকগুলোতে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরন মাঝি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৬ সালের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে তা বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপান্তরের পথে ওড়িশা
ভুবনেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওড়িশা এখন আর শুধু সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য পরিচিত নয়, বরং শিল্প, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, রাজ্যটি বর্তমানে এমন এক পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে এটি বৈশ্বিক শিল্প ও প্রযুক্তি মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে।

উন্নয়নের ভিত্তি ও শক্তি
মাঝি বলেন, ওড়িশার এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য, দীর্ঘ উপকূলরেখা, কৌশলগত অবস্থান, দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী, স্থিতিশীল প্রশাসন এবং জনগণের দৃঢ় মানসিকতা। এসব উপাদান মিলেই রাজ্যের উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে।

সমন্বিত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণ
সরকার বড় শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদেরও সমানভাবে উৎসাহ দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এই সমন্বিত নীতির ফলে দেশ-বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, যা রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন খাত
ওড়িশার উন্নয়নে অবকাঠামো খাতে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার রেল প্রকল্প এবং ৭০ হাজার কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নতুন বন্দর, জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক এবং পর্যটনের মতো খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা
ভুবনেশ্বর-কটক-পুরী-প্যারাদ্বীপ অঞ্চলকে পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্যাপিটাল রিজিয়ন রিং রোড ও উপকূলীয় মহাসড়কের মতো বড় প্রকল্প সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

উদ্যোক্তা ও স্বীকৃতির গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও অধ্যবসায়ই সফলতার মূল চাবিকাঠি—এ বার্তা নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে।

মিডিয়ার ভূমিকা
মাঝি বলেন, সংবাদমাধ্যম এখন শুধু খবর পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের মতামত গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার সত্ত্বেও প্রিন্ট মিডিয়া এখনও মানুষের প্রকৃত কণ্ঠস্বর তুলে ধরে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান
শেষে তিনি সরকার, শিল্প, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন, যাতে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী ওড়িশা গড়ে তোলা সম্ভব হয়।