যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান আকস্মিকভাবে দায়িত্ব ছাড়লেন, মাত্র ১৩ মাসের মধ্যেই তার এই বিদায় নতুন করে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই মূল কারণ
প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার মতে, ফেলানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সচিব এবং তার ডেপুটির দীর্ঘদিনের মতবিরোধই শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায়। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচি এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিরোধ ছিল তীব্র।
একজন কর্মকর্তা জানান, ফেলানকে মূলত পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
নতুন দায়িত্বে কে?
ফেলানের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব নিচ্ছেন নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও। তিনি আগে থেকেই এই পদে পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনে ধারাবাহিক পরিবর্তন
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদায়ের ধারাবাহিকতার অংশ। মার্চের পর থেকেই প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পদ হারিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন, যা সরকারের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল
প্রতিরক্ষা সচিবের অধীনে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বিভিন্ন শাখার শীর্ষ জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী ও সংখ্যালঘুদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
এই পদক্ষেপগুলো নিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।

জাহাজ নির্মাণ নিয়ে চাপ
ফেলানের ওপর অন্যতম বড় চাপ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশাসন অসন্তুষ্ট ছিল।
অনেক প্রকল্প সময়সূচি অনুযায়ী এগোয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছেন ফেলান—এমন অভিযোগও রয়েছে।
বিদেশে জাহাজ নির্মাণ প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক
ফেলানের একটি মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বিদেশে নৌযান নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলেছিলেন। এই বক্তব্যকে কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদি নীতির পরিপন্থী।
অতিরিক্ত উত্তেজনার আরেক কারণ
একটি ভিডিও ইস্যুতেও ফেলান ও প্রতিরক্ষা সচিবের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। ওই ভিডিওতে সেনাসদস্যদের বেআইনি নির্দেশ না মানার বিষয়ে বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এই তদন্ত আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
হঠাৎ বিদায়ে বিস্ময়
সবশেষে, ফেলানের বিদায়ের সময়টিও অনেককে বিস্মিত করেছে। বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি সিনেটের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে প্রশাসনের অস্থিরতা ও সমন্বয়হীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















