অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে জানুয়ারির রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রে-হেডেড ফ্লাইং-ফক্স বা উড়ন্ত শিয়ালের বড় কয়েকটি কলোনি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াইল্ডলাইফ ভিক্টোরিয়া সাত দিনের বিশেষ উদ্ধার অভিযান চালায় গুলবার্ন ভ্যালি অঞ্চলের নুমারকাহ ও টাটুরা এলাকায়। প্রতিটি কলোনিতেই প্রায় ১০ হাজার করে উড়ন্ত শিয়ালের বসবাস।
এই অভিযানে স্বেচ্ছাসেবক ও পশুচিকিৎসকেরা একসঙ্গে কাজ করে অসুস্থ ও আহত প্রাণীগুলোকে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মিস্টিং স্প্রেয়ার ব্যবহার করে তীব্র গরমে বিপন্ন উড়ন্ত শিয়ালগুলোকে ঠান্ডা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ভিক্টোরিয়ার আরও তিনটি বড় কলোনিতে স্থায়ী স্প্রিংকলার ব্যবস্থা থাকলেও নুমারকাহ ও টাটুরায় এখনো সেই অবকাঠামো নেই, ফলে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
কেন এত ঝুঁকিতে উড়ন্ত শিয়াল
চরম গরমে সব বন্যপ্রাণীই চাপে পড়ে, তবে উড়ন্ত শিয়াল তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, অন্য অনেক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো তারা শরীরের তাপমাত্রা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই তাদের মধ্যে হিট স্ট্রেস দেখা দিতে পারে। আর ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

এই বাস্তবতায় দ্রুত মানবিক হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন তাপপ্রবাহের সময় সময়মতো ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা না হলে খুব অল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক প্রাণী মারা যেতে পারে।
প্রাণহানি বড়, তবু রক্ষা পেয়েছে বহু প্রাণ
দেশজুড়ে এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহে হাজার হাজার উড়ন্ত শিয়াল মারা গেছে। তবু ওয়াইল্ডলাইফ ভিক্টোরিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা পামারের মতে, মাঠপর্যায়ে চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে “শত শত, এমনকি হাজারো প্রাণ” বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, জলবায়ুজনিত চরম আবহাওয়া শুধু মানুষের জন্য নয়, বন্যপ্রাণীর জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যে সব কলোনিতে স্থায়ী শীতলীকরণ অবকাঠামো নেই, সেখানে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















