সরকার রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সেচ মৌসুমে কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনের বৈষম্য কমানো।
সংসদে বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমানে জ্বালানির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীের পরামর্শ এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।
কৃষকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেচ মৌসুমের চূড়ান্ত সময়ে কৃষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, শহরের মানুষ তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলেও গ্রামে কঠোর পরিশ্রম করা কৃষকেরা বিদ্যুৎ সংকটে বেশি ভোগেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনো বৈষম্য থাকা উচিত নয়। এই বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজন অনুযায়ী শহরে লোডশেডিং বাড়িয়ে গ্রামে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমান সংকট ও সরকারের ব্যাখ্যা
চলমান বিদ্যুৎ সংকটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে, তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি; বরং দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ফল। অতীতের ভুল ব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
উৎপাদন সক্ষমতা ও বাস্তবতা
প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বেশি দেখালেও জ্বালানি সংকটের কারণে বাস্তবে উৎপাদন কম হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়, যা লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সামাল দিতে হয়েছে।
সেচে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার
সরকার সেচ মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতি এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী, ফসল উৎপাদনের সময় যাতে বিদ্যুতের অভাবে কৃষিকাজ ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















