০৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

প্লাস্টিকের দাম বাড়ায় বিকল্প প্যাকেজিংয়ে ঝুঁকছে ইন্দোনেশিয়া

বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়া এখন প্যাকেজিং খাতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয় খাদ্য ও পানীয় শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কাগজ, কাচ ও অন্যান্য বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বৈশ্বিক সংকট ও নতুন দিকনির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্লাস্টিকের দাম বেড়ে যাওয়াকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা উৎপাদন খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে চায়।

কাগজ, কাচ ও পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের দিকে ঝোঁক

ইতোমধ্যে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাগজ, কাচ, ধাতু এবং পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক (আরপিইটি) ব্যবহার শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে যেমন খরচ কমানোর লক্ষ্য আছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ে বড় সম্ভাবনা দেখছে সরকার। দেশের শক্তিশালী কাগজ ও পাল্প শিল্পের কারণে এই খাত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। খুচরা বাজার, খাদ্য ও পানীয়, ই-কমার্স এবং লজিস্টিকস—সবখানেই কাগজের ব্যবহার বাড়ছে।

উন্নত প্যাকেজিং প্রযুক্তিতে জোর

খাদ্য ও পানীয় শিল্পে বহুল ব্যবহৃত অ্যাসেপ্টিক প্যাকেজিংয়ের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। পাশাপাশি ব্যারিয়ার পেপার, কাগজের বোতল, ন্যানো-সেলুলোজ কোটিং এবং স্মার্ট পেপার প্যাকেজিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তিতে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শক্তিশালী কাগজ শিল্পের অবদান

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় ১১৩টি কাগজ ও পাল্প কোম্পানি রয়েছে। বছরে প্রায় ১৪.৪৮ মিলিয়ন টন পাল্প এবং ২৫.৩৭ মিলিয়ন টন কাগজ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই খাতে। রপ্তানি আয় ৮.২ বিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ১৪.৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই শিল্পের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

Plastic Prices Double in Indonesia as Middle East Tensions Disrupt Supply  Chains

কাচের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা

কাচের প্যাকেজিং বর্তমানে মোট ব্যবহারের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ হলেও, সরকার এটিকে ৫ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। এর মাধ্যমে দেশীয় কাচ শিল্পকে চাঙা করার লক্ষ্য রয়েছে।

জৈব প্লাস্টিকের সম্ভাবনা

কাসাভা ও সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি জৈব প্লাস্টিকের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। এই দুই কাঁচামালের বড় উৎপাদক হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া এই খাতে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কাসাভা-ভিত্তিক বায়োপ্লাস্টিকের উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ৮ হাজার টন, আর শৈবালভিত্তিক উৎপাদন এখনো খুব সীমিত—মাত্র ২৮ টন।

শিল্পখাতে চাপ ও পরিবর্তনের প্রবণতা

প্লাস্টিকের দাম ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় শিল্পখাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে কিছু পানীয় উৎপাদক, যারা আগে কাচ থেকে প্লাস্টিকে গিয়েছিল, তারা আবার কাচের প্যাকেজিংয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে।

অন্যদিকে, কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ের চাহিদা ইতোমধ্যে বেড়েছে। কিছু কোম্পানির বিক্রি চলতি বছরের শুরু থেকেই ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

যদি বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসে কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ের চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে রপ্তানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইন্দোনেশিয়া একদিকে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

প্লাস্টিকের দাম বাড়ায় বিকল্প প্যাকেজিংয়ে ঝুঁকছে ইন্দোনেশিয়া

০৭:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে প্লাস্টিকের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় ইন্দোনেশিয়া এখন প্যাকেজিং খাতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয় খাদ্য ও পানীয় শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে কাগজ, কাচ ও অন্যান্য বিকল্প উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

বৈশ্বিক সংকট ও নতুন দিকনির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্লাস্টিকের দাম বেড়ে যাওয়াকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা উৎপাদন খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ে উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করতে চায়।

কাগজ, কাচ ও পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের দিকে ঝোঁক

ইতোমধ্যে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে কাগজ, কাচ, ধাতু এবং পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিক (আরপিইটি) ব্যবহার শুরু করেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে যেমন খরচ কমানোর লক্ষ্য আছে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ে বড় সম্ভাবনা দেখছে সরকার। দেশের শক্তিশালী কাগজ ও পাল্প শিল্পের কারণে এই খাত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। খুচরা বাজার, খাদ্য ও পানীয়, ই-কমার্স এবং লজিস্টিকস—সবখানেই কাগজের ব্যবহার বাড়ছে।

উন্নত প্যাকেজিং প্রযুক্তিতে জোর

খাদ্য ও পানীয় শিল্পে বহুল ব্যবহৃত অ্যাসেপ্টিক প্যাকেজিংয়ের উন্নয়নেও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। পাশাপাশি ব্যারিয়ার পেপার, কাগজের বোতল, ন্যানো-সেলুলোজ কোটিং এবং স্মার্ট পেপার প্যাকেজিংয়ের মতো নতুন প্রযুক্তিতে গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শক্তিশালী কাগজ শিল্পের অবদান

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় ১১৩টি কাগজ ও পাল্প কোম্পানি রয়েছে। বছরে প্রায় ১৪.৪৮ মিলিয়ন টন পাল্প এবং ২৫.৩৭ মিলিয়ন টন কাগজ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই খাতে। রপ্তানি আয় ৮.২ বিলিয়ন ডলার এবং প্রায় ১৪.৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই শিল্পের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।

Plastic Prices Double in Indonesia as Middle East Tensions Disrupt Supply  Chains

কাচের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা

কাচের প্যাকেজিং বর্তমানে মোট ব্যবহারের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ হলেও, সরকার এটিকে ৫ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। এর মাধ্যমে দেশীয় কাচ শিল্পকে চাঙা করার লক্ষ্য রয়েছে।

জৈব প্লাস্টিকের সম্ভাবনা

কাসাভা ও সামুদ্রিক শৈবাল থেকে তৈরি জৈব প্লাস্টিকের দিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। এই দুই কাঁচামালের বড় উৎপাদক হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া এই খাতে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কাসাভা-ভিত্তিক বায়োপ্লাস্টিকের উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ৮ হাজার টন, আর শৈবালভিত্তিক উৎপাদন এখনো খুব সীমিত—মাত্র ২৮ টন।

শিল্পখাতে চাপ ও পরিবর্তনের প্রবণতা

প্লাস্টিকের দাম ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় শিল্পখাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে কিছু পানীয় উৎপাদক, যারা আগে কাচ থেকে প্লাস্টিকে গিয়েছিল, তারা আবার কাচের প্যাকেজিংয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে।

অন্যদিকে, কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ের চাহিদা ইতোমধ্যে বেড়েছে। কিছু কোম্পানির বিক্রি চলতি বছরের শুরু থেকেই ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

যদি বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আগামী কয়েক মাসে কাগজভিত্তিক প্যাকেজিংয়ের চাহিদা আরও দ্রুত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে রপ্তানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ইন্দোনেশিয়া একদিকে খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্প কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে চায়।