০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
আজ পরিষ্কার, কালই আবার দখল: ঢাকার ফুটপাত কেন মুক্ত রাখা যায় না অসম বনাম কেরল: তরুণ ভোটার, ভাষার বৈচিত্র্য আর রাজনীতির ভিন্ন স্রোত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন দানব, সাইবার যুদ্ধ কি তবে সবার হাতে চলে যাচ্ছে প্রত্যাশা থাকবে, কিন্তু আমার সব মনোযোগ এখন কাজেই মহাকাশের গভীরে দূরত্ব মাপার নতুন পথ খুঁজে পেলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা পাওয়ান খেরার আগাম জামিন আবেদন, অসম মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর মামলায় তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে দ্বারস্থ কংগ্রেস নেতা চাকরির প্রতিশ্রুতিতেই জোর, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ইশতেহারে তরুণদের জন্য আলাদা বার্তা ডিলিমিটেশন ইস্যুতে চুপ করে থাকবে না ডিএমকে, কেন্দ্রকে স্টালিনের কড়া প্রশ্ন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ, বের হওয়ার অপেক্ষায় শত শত জাহাজ নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূল প্রতিনিধিদলের বৈঠক তিক্ততায় শেষ

ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল আধুনিক লড়াই কত বদলে গেছে

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, আধুনিক যুদ্ধের বদলে যাওয়া রূপেরও এক কঠিন উদাহরণ। এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিচ্ছে, এখন আর সংঘাত শুধু ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা স্থল অভিযানে সীমাবদ্ধ নেই। সস্তা ড্রোন, দ্রুত নজরদারি, তাৎক্ষণিক লক্ষ্যভেদ, বিপুল গোলাবারুদ ব্যবহার এবং অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার কৌশল—সব মিলিয়ে যুদ্ধের চরিত্রই বদলে গেছে।

নতুন যুদ্ধের মুখ

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধগুলোর মতো নয়। বরং এটি অনেক বেশি মিল রাখছে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে। এখানে সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রও আর শুধু সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে।

What to know about Iran's low-cost, long-range Shahed drones wreaking havoc  in the Middle East - ABC News

ড্রোন ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ

এই সংঘাতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার। শুরু থেকেই ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিপুলসংখ্যক ড্রোন ছুড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। সমস্যা হলো, এই ড্রোন ঠেকাতে যে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার খরচ ড্রোনের দামের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, তুলনামূলক সস্তা অস্ত্র দিয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা যাচ্ছে।

কেন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র যথেষ্ট নয়

এখানে শুধু দামি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সমাধান হবে না বলেই মত উঠে এসেছে। প্রয়োজন বহুস্তর প্রতিরক্ষা। প্রথমে ড্রোনের সরবরাহ চেইন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে হবে। এরপর দূর থেকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ড্রোন অকার্যকর করার কৌশল নিতে হবে। পাশাপাশি কম খরচে ড্রোন ঠেকাতে প্রতিরোধী ড্রোনসহ নতুন সমাধান গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা অস্ত্র কেবল বড় হুমকির জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘাঁটি, অবকাঠামো ও সেনা মোতায়েনের ধরনও বদলাতে হবে।

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সচল, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র  প্রতিহতের ভিডিও প্রকাশ

ইউক্রেন থেকে শেখার বার্তা

এই বিশ্লেষণে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি নির্মিত ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে ইউক্রেন ইতিমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে বহু কৌশল তৈরি করেছে। সেই অভিজ্ঞতা এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থাৎ, এক যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষা আরেক যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি কাজে লাগছে। আধুনিক যুদ্ধে মিত্রদের মধ্যে এই ধরনের বাস্তব সহযোগিতা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

গোলাবারুদের মজুতও এখন কৌশলগত প্রশ্ন

আরেকটি বড় শিক্ষা হলো, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খুব দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। শুধু যুদ্ধ করার সক্ষমতা থাকলেই হবে না, সেই সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য লাগাতার উৎপাদন ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে যৌথ উৎপাদন, সরবরাহ ভাগাভাগি এবং কেনাকাটার সমন্বয় এখন বড় কৌশলগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে একক শক্তির পক্ষে সব চাপ সামলানো কঠিন।

গোলাবারুদ পরিকল্পনার আওতায় ইউক্রেনে ২ লক্ষ শেল পাঠানো হয়েছে : ইইউ |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

যুদ্ধ এখন অর্থনীতিকেও সরাসরি নিশানা করে

ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় দিক হলো অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো শক্তিশালী বাহিনীকে সরাসরি হারানো ছাড়াও বিরাট ক্ষতি করা সম্ভব, যদি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা যায়। হরমুজ প্রণালি যদি তেলবাহী জাহাজের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তাহলে তার অভিঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে। অর্থাৎ, আধুনিক যুদ্ধে অর্থনীতি নিজেই একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহনশীলতা গড়ে তোলাও এখন অপরিহার্য।

বদলে যাওয়া যুদ্ধের কঠিন শিক্ষা

সব মিলিয়ে এই সংঘাত একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আধুনিক যুদ্ধ দ্রুত, ছড়িয়ে থাকা, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক। যে পক্ষ এই পরিবর্তিত বাস্তবতা দ্রুত বুঝে নিজেদের কাঠামো বদলাতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। আর যারা পুরোনো যুদ্ধধারায় আটকে থাকবে, তাদের জন্য ভবিষ্যৎ সংঘাত আরও ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ পরিষ্কার, কালই আবার দখল: ঢাকার ফুটপাত কেন মুক্ত রাখা যায় না

ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল আধুনিক লড়াই কত বদলে গেছে

০৬:১১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়, আধুনিক যুদ্ধের বদলে যাওয়া রূপেরও এক কঠিন উদাহরণ। এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিচ্ছে, এখন আর সংঘাত শুধু ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা স্থল অভিযানে সীমাবদ্ধ নেই। সস্তা ড্রোন, দ্রুত নজরদারি, তাৎক্ষণিক লক্ষ্যভেদ, বিপুল গোলাবারুদ ব্যবহার এবং অর্থনীতিকে অচল করে দেওয়ার কৌশল—সব মিলিয়ে যুদ্ধের চরিত্রই বদলে গেছে।

নতুন যুদ্ধের মুখ

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আগের যুদ্ধগুলোর মতো নয়। বরং এটি অনেক বেশি মিল রাখছে ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে। এখানে সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রও আর শুধু সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আরও বিস্তৃত এলাকাজুড়ে।

What to know about Iran's low-cost, long-range Shahed drones wreaking havoc  in the Middle East - ABC News

ড্রোন ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ

এই সংঘাতের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার। শুরু থেকেই ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিপুলসংখ্যক ড্রোন ছুড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। সমস্যা হলো, এই ড্রোন ঠেকাতে যে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার খরচ ড্রোনের দামের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, তুলনামূলক সস্তা অস্ত্র দিয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলা যাচ্ছে।

কেন শুধু ক্ষেপণাস্ত্র যথেষ্ট নয়

এখানে শুধু দামি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সমাধান হবে না বলেই মত উঠে এসেছে। প্রয়োজন বহুস্তর প্রতিরক্ষা। প্রথমে ড্রোনের সরবরাহ চেইন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে হবে। এরপর দূর থেকে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ড্রোন অকার্যকর করার কৌশল নিতে হবে। পাশাপাশি কম খরচে ড্রোন ঠেকাতে প্রতিরোধী ড্রোনসহ নতুন সমাধান গড়ে তুলতে হবে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা অস্ত্র কেবল বড় হুমকির জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘাঁটি, অবকাঠামো ও সেনা মোতায়েনের ধরনও বদলাতে হবে।

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সচল, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র  প্রতিহতের ভিডিও প্রকাশ

ইউক্রেন থেকে শেখার বার্তা

এই বিশ্লেষণে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি নির্মিত ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে ইউক্রেন ইতিমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে বহু কৌশল তৈরি করেছে। সেই অভিজ্ঞতা এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অর্থাৎ, এক যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষা আরেক যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি কাজে লাগছে। আধুনিক যুদ্ধে মিত্রদের মধ্যে এই ধরনের বাস্তব সহযোগিতা এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

গোলাবারুদের মজুতও এখন কৌশলগত প্রশ্ন

আরেকটি বড় শিক্ষা হলো, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খুব দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। শুধু যুদ্ধ করার সক্ষমতা থাকলেই হবে না, সেই সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য লাগাতার উৎপাদন ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তাই মিত্র দেশগুলোর মধ্যে যৌথ উৎপাদন, সরবরাহ ভাগাভাগি এবং কেনাকাটার সমন্বয় এখন বড় কৌশলগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে একক শক্তির পক্ষে সব চাপ সামলানো কঠিন।

গোলাবারুদ পরিকল্পনার আওতায় ইউক্রেনে ২ লক্ষ শেল পাঠানো হয়েছে : ইইউ |  শিরোনাম | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

যুদ্ধ এখন অর্থনীতিকেও সরাসরি নিশানা করে

ইরান যুদ্ধের আরেকটি বড় দিক হলো অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোনো শক্তিশালী বাহিনীকে সরাসরি হারানো ছাড়াও বিরাট ক্ষতি করা সম্ভব, যদি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা যায়। হরমুজ প্রণালি যদি তেলবাহী জাহাজের জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তাহলে তার অভিঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে। অর্থাৎ, আধুনিক যুদ্ধে অর্থনীতি নিজেই একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহনশীলতা গড়ে তোলাও এখন অপরিহার্য।

বদলে যাওয়া যুদ্ধের কঠিন শিক্ষা

সব মিলিয়ে এই সংঘাত একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আধুনিক যুদ্ধ দ্রুত, ছড়িয়ে থাকা, প্রযুক্তিনির্ভর এবং অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক। যে পক্ষ এই পরিবর্তিত বাস্তবতা দ্রুত বুঝে নিজেদের কাঠামো বদলাতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে। আর যারা পুরোনো যুদ্ধধারায় আটকে থাকবে, তাদের জন্য ভবিষ্যৎ সংঘাত আরও ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।